অসুস্থ মা। ছেলে তারেক লন্ডনে। প্রতিদিন তিনি সেখান থেকে মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন। চাইছেন দেশে ফিরে মাকে নিজের চোখে দেখতে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে তারেকের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। গত রবিবার বাংলাদেশের তদারকি সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, তারেকে দেশে ফেরা নিয়ে তাঁর দফতরে কোনও তথ্য নেই। তথ্য নেই দূতাবাসে। তবে তাঁর স্ট্যাটাস স্পর্শকাতর। তারেক দেশে আসতে চাইলে তাঁর মন্ত্রক থেকে তাকে ওয়ান টাইম পাস দেবে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে অন্য দেশের কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, লন্ডনে তিনি কোন স্ট্যশটাসে আছেন, তা জানে না সরকার। তিনি দেশে ফিরতে চাইলে অন্য কোনো দেশ তা আটকাতে পারে, সেটি অস্বাভাবিক। আর বাংলাদেশ যদি তার কোনো নাগরিককে দেশে ফেরত আনতে চায়, তবে অন্য দেশ কীভাবে বাধা দিতে পারে? প্রেস সচিব তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লেখেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের কোনো বিধিনিষেধ নেই। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক রহমান খুব তাড়াতাড়ি দেশে ফিরবেন। সোমবার রাতে রাজধানী গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে উত্তর দিচ্ছিলেন।
ফেসবুক পেজে তারেক লেখেন, ‘কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারতি ও একক নিয়ন্ত্রাধীন নয়। স্পর্শকাতর বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়ামাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী। এখনই দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আমার একার নিয়ন্ত্রাধীন নয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তাঁর ফেরা নির্ভর করছে। ’
প্রশ্ন হচ্ছে তারেক চাইলেই কি দেশে ফিরতে পারবেন? সহজ কথায় না। কারণ তাঁর ভয় সেনাপ্রধান ওয়াকারকে নিয়ে। তারেক জানেন এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি, সেই পরিস্থিতিতে দেশে ফিরতে হলে তার নিরাপত্তা প্রয়োজন। কিন্তু সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁকে সেই নিরাপত্তা দেবে না। এই প্রসঙ্গে ১৭ বছর আগের একটি ঘটনা উল্লেখ করতে হয়। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জিয়া। অভিযোগ মা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে ঢাকার হাওয়া ভবনে সমান্তরাল প্রশাসন খুলে বসেছিলেন তারেক। চাঁদাবাজির অভিযোগে তারেককে গ্রেফতার করে রাখা হয় সেনা হেফাজতে। দেশ ছাড়ার পর তারেক সেনার বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। বলেন, সেখানে তাঁর ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়। একসময় জিয়া, তাঁর দুই ছেলে – তারেক এবং কোকো ছিলেন জেলে। কোনও রকমে সেনার কাছ থেকে কোকোর জামিনের ব্যবস্থা করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন জিয়া। নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, এই শর্তে তারেককে মুক্তি দেওয়া হয়। তার আগে জিয়া সেনাবাহিনীকে এই বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তারেক আর রাজনীতিতে ফিরবেন না।
তারেকের ফেরা মানে সেনাবাহিনীর ঝুঁকি। সেনার তৎকালীন প্রধান মঈন ইউ আহমদ চেয়েছিলেন তারেককে কারাগারে বন্দী রেখে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে। কিন্তু খালেদা জিয়ার পীড়াপীড়িতে তাঁর বড় পুত্রকেও শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেলেও তারেক দেশে ফেরেননি। কবে ফিরবেন তাও কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না।












Discussion about this post