হনুমানকে বিমানের ককপিটে বসালে যে কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমন করা যায়। হয়তো কোনও দিন কোনও দেশ এই পরীক্ষা করবে না। তবে বাংলাদেশের ব্যাপারটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, সে দেশের সরকার যে কোনও সময় একটি হনুমানকে জঙ্গল থেকে খপাত করে ধরে এনে সোজা বিমানের ককপিটে বসিয়ে দিলেও দিতে পারে। কারণ দেশের শাসনভার হাতে পেয়েছেন এমন একটা লোক, রাজনীতির সঙ্গে যাঁর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। রাজনীতির পাঠশালার চৌকাঠে একদিনের জন্য তাঁর পা পড়েনি। অতচ তাঁর হাতেই দেশ শাসনের ভার। ব্যাপারটা ককপিট হনুমান বসিয়ে দেওয়ার মতো নয় কি। আর তিনি এমন একজনের সঙ্গে পাঙ্গা নিচ্ছেন, যার জন্ম এমন একটি পরিবারে, যে পরিবারের হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। যে পরিবারের প্রাতঃরাশ থেকেই শুরু হয় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে। তার সঙ্গে পাঙ্গা নিতে গেলে যে কী হয় এবার সেটা ইউনূস সাহেব হারে হারে টের পাচ্ছেন।
হাসিনা ভারতে রয়েছেন। মনে করা হচ্ছে তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও দিল্লিতে রয়েছেন বলে সকলের অনুমান। হাসিনা আমলের অধিকাংশ মন্ত্রী দেশের বাইরে। বাকিরা দেশের মধ্যেই নিরাপদস্থানে আত্মগোপন করে রয়েছে। তদারকি সরকারের মাথা ব্যথা হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে নিয়ে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর থেকে এই দুইকে ফিরে পেতে তদারকি সরকার আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। কেন যে কেউ তাদের বোঝাচ্ছে না যে যতই লম্ফঝম্প করে না পাবে হাসিনাকে না পাবে তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। চিৎকার করে কোনও লাভ নেই। ভুলে যেও না ভারতের কাছে হাসিনার পরিচয় একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। দিল্লি তাঁর প্রতি নানা কারণে কৃতজ্ঞ। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে জঙ্গিমুক্ত করার পিছনে বঙ্গবন্ধু কন্যার অবদান দিল্লি কোনও কালে ভোলেনি। কেন্দ্রে একাধিকবার ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু হাসিনার প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রকের দৃষ্টিভঙ্গির সামান্যতম পরিবর্তন হয়নি। তাই, হাজার চিৎকার করলেও মুজিব-কন্যাকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই। আর প্রত্যর্পণচুক্তি? এই চুক্তিতে এমন একটি আইন রয়েছে যে আইন দেখিয়ে বাংলাদেশ যেমন প্রত্যর্পণের আর্জি নাকচ করে দিতে পারে, নাকচ করে দিতে পারে ভারতও। অতএব হাসিনা যেদিন দেশে ফেরার জন্য মনস্থির করবেন, সেদিন তিনি ফিরবেন। আর তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করবে ভারত।
এই অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়েছে। (নিউজ বর্তমান সেই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি)। সেখানে হাসিনা কার্যত তদারকি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘দেশে ফিরব। আমার জন্য বাংলাদেশ থেকে একটা বিমান পাঠিয়ে দিলেই হবে। ওই বিমানে চড়ে বাংলাদেশ ফিরবেন।
এই সেই অডিও বার্তা
এই বার্তা পেয়ে যে ইউনূস সাহেব এবং তাঁর নবরত্ন সভার সদস্যরা ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপবে, তা বলাই বাহুল্য। সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। যাকে ফেরত পাওয়ার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে রয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান থেকে মোল্লাতন্ত্রের মাথারা, তাদেরই হাসিনা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন। হাসিনার আবদার রাখবেন ইউনূস? চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন?












Discussion about this post