আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ দায়ের করেছিল তদারকি সরকার। রায় ঘোষণার আগেই এই দুই তো বটেই, গোটা দুনিয়া জেনে গিয়েছিল এই ক্যাঙারু আদালত তাঁদের কী সাজা দিতে চলেছে। সাজা দিয়েছে মৃত্যুদণ্ডের। সেটা কার্যকর হবে কি হবে না, সেটা পরের কথা। সেই সূত্রেই ধরে নেওয়া হয়েছিল জমি মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন রেহানা এবং রেহানা-কন্যা টিউলিপের ক্ষেত্রে কী সাজা হতে চলেছে। এই তিনকে যে বিশেষ আদালত বেকসুর খালাস করবে না তা ধরেই নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয়নি ঠিকই। দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। সেই সঙ্গে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে। রায় দিয়েছেন বাংলাদেশের বিশেষ আদালতের বিচারক রবিউল আলম, গত সোমবার। কিন্তু এই রায় ঘোষণা করে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তদারকি সরকার প্রধান ও তাঁর নবরত্ন সভার সদস্যদের। কারণ হাসিনা রয়েছেন ভারতে। রেহানা ব্রিটেনে। হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকা থেকে দিল্লিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। আর টিউলিপ সিদ্দিক রয়েছেন ব্রিটেনে। সে দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। ব্রিটেনের লেবার পার্টি জানিয়েছে, পুরো বিচারপ্রক্রিয় অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে হয়েছে।
টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি ব্রিটেনের সাংসদ হওয়ার দৌলতে নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাঁর খালা তথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে তাঁর মা, ভাই ও বোনের নামে প্লট বরাদ্দ করিয়ে নেন। তিনি অবশ্য তাঁর নিজের জন্য জমি বরাদ্দ করেননি। অভিযোগ ওঠার পরে পরে টিউলিপ সাংসদ পদে ইস্তফা দেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, জমি বেআইনিভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে। সোমবার আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মাইনুল বিশেষ এজলাসে বলেন, হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন টিউলিপ সিদ্দিক মাঝেমধ্যে ঢাকা সফর করতেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্লট পাইয়ে দিতে তিনি ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের চাপ দেন। যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে সরকার পক্ষের আইনজীবী আদালতে কোনও তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে পারেননি। জানিয়েছেন, সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কর্মরত দুই কর্মকর্তার সাক্ষ্য থেকেই এসব তথ্য এসেছে।
এই রায় প্রসঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত বহু প্রমাণই জাল। তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিচার করা হয়েছে। আদালতে বলা হয়েছে, তাঁর বাংলাদেশি পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও ট্যাক্স আইডি রয়েছে। টিউলিপের দাবি, শৈশবের পর আর কখনও তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট রাখেননি, আর বাংলাদেশে করও দেননি। সাবেক ব্রিটিশ সাংসদ বলেন এই রায় ‘অবজ্ঞা পাওয়ার যোগ্য এবং সেটাই পাবে। টিউলিপের কথায়, ‘পুরো প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক। ‘ক্যাঙারু কোর্টের’ এ রায় যেমন পূর্বনির্ধারিত, তেমনি অন্যায়। আমি আশা করি, এই কথিত ‘রায়’ অবজ্ঞা ছাড়া আর কিছুই পাবে না। আমার মনোযোগ আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষদের প্রতি। বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতিতে আমি নিজেকে জড়াতে চাই না।’
গত সপ্তাহে ব্রিটেনের কয়েকজন শীর্ষ আইনজীবী ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে জানান, টিউলিপের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা সাজানো। একজন আইনজীবী টিউলিপসহ অন্যদের পক্ষে দাঁড়াতে চাইলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post