এক অদ্ভুদ পরিস্থিতি বাংলাদেশে। ৭১এ মুক্তি যুদ্ধের সময় যা যা হয়েছিল আওয়ামীলীগের সঙ্গে, আজও তাই তাই হচ্ছে। সেই একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা, রাজকারদের হুঙ্কার এবং অত্যাচারের নিয়ম নীতি তৈরী হচ্ছে খোলা মাঠে মিটিং করে।
আওয়ামীলীগকে সব দিক থেকে শেষ করতে চাওয়ার পিছনে কারণ হল, বিদেশের একটি জরিপ থেকে দেখা গেছে এখনও অর্ধেকের থেকে বেশী মানুষ আওয়ামীলীগকে চাই। এবং আওয়ামীলীগকে যারা সফিস্টিকেটেড শহুরে দল ভাবতো, তাদের ধারণা ভুল প্রমানিত করে প্রায় ৬২ শতাংশের বেশী গ্রামের মানুষ হাসিনাকে চায়। গ্রামের মানুষের জন্য হাসিনার সরকারী প্রকল্পের কারণে তারাআজও, আওয়ামীলীগের এই দুর্দিনেও হাসিনাকে দেশ এবং দশের উন্নয়নকারী বলে মনে করে।
তাছাড়া এখন মানুষ বুঝতে পারছে যারা সরকারে এসেছে তারা কারা, এবং কি তাদের অভিপ্রায়, কাদের দমিয়ে রাখতে হাসিনাকে স্বৈরাচারী সাজতে হয়েছে। এখন বাংলাদেশে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলা হচ্ছে, কিন্তু এখনও ৭১এ জন্ম নেওয়া মানুষেরা শেষ হয়ে যায়নি, অথবা তাদের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি মুক্তি যু্দ্ধের ভয়াবহতা। ফলে সরাসরি মুক্তি যুদ্ধকে অসম্মান করতে পারছে না রাজাকারের দল। কিন্তু সব কেমন বিপরীত ধর্মী ব্যপার স্যাপার, একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান, গলায় জুতার মালা পরানো হচ্ছে,আবার সেনাপ্রধান সেই মুক্তিযোদ্ধাদের বীর সৈনিক বলছেন, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসছেন না। তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছেন তিনি কি ভুল করেছেন। একটা নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গিয়েছেন, যাকে গণঅভ্যুত্থান বলা হচ্ছিল, সেটি যে ডিপস্ট্রেটের খেলা তার তো প্রামানের শেষ নেই। ফলে সেনাপ্রধান যে লোভের কারণে অথবা ভয়ে হাসিনার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি কি বুঝতে পারছেন জুলাই অভ্যুত্থান কোন গণঅভ্যুত্থান নয়, এটি হল পাকিস্তানের বদলা। যারা ৫৪ বছর ধরে তাদের ক্ষোভ পুষে রেখেছিল আজ তারা বাংলাদেশ ধ্বংস করে তার প্রতিশোধ নিতে চায়।। বা্ংলাদেশকে আবার পাকিস্তান বানাতে চায়। তিনি বুঝুন আর নাই বুঝুন, বুঝতে হবে মুক্তিযুদ্ধ প্রেমী সব মানুষকে, তার মধ্যে শুধু আওয়ামীলীগ নয়, বিএনপিকেও বুঝতে হবে দেশের পরিস্থিতি। তারা ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর, তারা বুঝতে পারছে না প্রথমে আওয়ামীলীগ কে শেষ করা হবে, তার পর তাদের পালা। তাই ছাত্রনেতারা তাদের সামনেই তাদের চাঁদাবাজ বলে অপমান করে। বিএনপির মনে রাখা উচিৎ যে দিন আওয়ামীলীগ শেষ হবে, সেই দিনই বিএনপিরও শেষের শুরু হবে। তাই মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই দুই দলের উচিৎ দেশের স্বার্থে মানুষকে রক্ষা করা, যেভাবে আওয়ামীলীগকে একের পর এক মামলা দিয়ে জেল বন্দি করে রাখা হচ্ছে, এমনকি জামিন হয়ে যাওয়ার পরও তাদের ছাড়া হচ্ছে না, নতুন মামলার অপেক্ষায় জেলেই বিনা কারণে বন্দি করে রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের মনোবল ভেঙে যায়, তারা আত্যহত্যা করতে বাধ্য হয়। এসবের থেকে মুক্তির একটাই রাস্তা সেটি হল এখনই সবার রাস্তায় নেমে আর একটা সত্যিকারের গণঅভ্যুত্থান।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post