মুহাম্মদ ইউনূস আগেই ঘোষণা করেছেন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই মতো যদি নির্বাচন হয়, তাহলে হাতে আর মাত্র আড়াই মাস বাকি। ফলে এই মুহূর্তে গোটা বাংলাদেশের মানুষই কৌতুহলি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন, কবে ঘোষণা হবে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। কিন্তু আদৌ কি নির্বাচন হবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে? এই বিষয়ে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কারণ, সাধারণত নির্বাচনের তহশীল ঘোষণা মাস দুই আগেই হয়ে যায়। তবে এবারের ব্যাপারটা আলাদা, তাই এই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বা দিনক্ষণ অনেক আগেই ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু না অন্তর্বর্তী সরকার, না জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে মুখ খুলছে না। অন্তত ২ ডিসেম্বরও নির্বাচনের বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। অনেকগুলি ফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাঁর এখন-তখন অবস্থা। এই আবহেই বাংলাদেশের এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু আচমকাই দাবি করলেন, ‘খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তবে যেহেতু তাঁকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, এ জন্য বিএনপি চাইলে কমিশনের কাছে নির্বাচন কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করতে পারে। এবি পার্টি আদতে জামাতের বি টিম হিসেবেই পরিচিত। তাঁদের একক ক্ষমতা কতটা সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জুর বক্তব্যের গুরুত্ব আছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। কারণ বিএনপি আগেভাগেই খালেদা জিয়ার জন্য একটি-দুটি নয় কার্যত তিনটি আসন বরাদ্দ করে রেখেছে। বিএনপির তরফে জানানো হয়েছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসন্ন নির্বাচনে বগুড়া-৭, দিনাজপুর-৩ এবং ফেনী-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও তখন তিনি এতটা অসুস্থ ছিলেন না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা অসুস্থ হওয়ায় নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে বলে এবি পার্টি কেন দাবি করছে! যেখানে বিএনপি এখনও কিছু বলেনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবি পার্টি হল জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশের ছায়া দল। তাঁরা রয়েছে কেবলমাত্র জামাতের ছায়া হয়েই। ফলে এবি পার্টির কোনও মন্তব্য আসলে জামাতেরই কথা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জামাত এখনও বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন চায় না। এটা জামাত বহুবার হাবে ভাবে বা প্রকাশ্যেই বলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কার্যত জামাতের অঙ্গুলিহেলনেই চলছে। ফলে তাঁরা কোনও ভাবেই চাইবে না তাঁদের দখলদারি সরকার সরে যাক। যদিও জামাত বাংলাদেশে নিজেদের রাজনৈতিক জমি অনেকটাই পুনরুদ্ধার করেছে, কিন্তু এথনও অনেকটা পথ তাঁদের যেতে হবে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য কোনও সুযোগই হারাতে নারাজ জামাত বা তাঁদের সহযোগী সংগঠনগুলি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখনও মনে করছেন, লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক ছিল আসলে একটা পাতা ফাঁদ। যাতে পা দিয়েছেন তারেক রহমান। এখন শত ইচ্ছা থাকলেও তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। তাঁর মা তথা বিএনপির সর্বোচ্চ নেত্রী খালেদা জিয়া মরণাপন্ন হলেও ছেলে হিসেবে তারেক বাংলাদেশে পা রাখতে ভয় পাচ্ছেন। নেপথ্যে আসল কারণটা কি সেটা অনেকেই জানেন। জামাতপন্থী সেনা আধিকারিক এবং জামাতের শীর্ষ নেতৃত্বই তারেকের দেশে না ফেরার কারণ। অপরদিকে, মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিও দেশে ও বিদেশে একটা অনাস্থা তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও কার্যত ইউনূসের মাথার উপর থেকে হাত তুলে নিয়েছেন। দোহায় খলিলুর রহমানের সাথে মার্কিন ও ভারতের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অনেকগুলি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেই কেউ কেউ দাবি করছেন। যা মোটেই মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য সুখকর নয়। ফলে আসন্ন নির্বাচন আদৌ ইউনূসের সরকারের নেতৃত্বে হবে কি না, সেটাই এখন দেখার। এমনও হতে পারে নির্বাচন আরও কিছুটা পিছল, আর সেটা হল একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগও অংশগ্রহণ করবে। ফলে তখন বিএনপি ও জামাতের পরিস্থিতি অনেকটাই খারাপ হবে সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে পরিস্থিতি যা ইঙ্গিত করছে, তা হল আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে না। যেটা হবে সেটা হল ইউনূসের পতন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post