বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে একটি মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আরেকটি মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ঢাকার একটি আদালতও তাঁকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এখনও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারাধীন কয়েকশো মামলা। ফলে তাঁর শাস্তির মেয়াদ এবং বহর কোথায় গিয়ে পৌঁছয় সেটা নিয়েই চর্চা চলছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে। কিন্তু শেখ হাসিনা গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ঠিক প্রাক মুহূর্তে ঢাকার গণভবন থেকে পালিয়ে ভারতে চলে এসেছিলেন।
তারপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। ঢাকার ট্রাইবুনালে তাঁর সাজা ঘোষণার পরই মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে কড় চিঠি দিয়েছে ভারত সরকারকে। কিন্তু তাঁর বিষয়ে ভারতের তরফে সেরকম ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া নেই। কেবলমাত্র জানানো হয়েছে ওই চিঠির আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হবে। তবে বেসরকারি মহলে দাবি করা হচ্ছে, ভারত মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে আদৌ ফেরত দেবে না তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু শেখ হাসিনাকে। এই আবহেই হাসিনার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত ভাইরাল হয়েছে। তাতে শোনা যাচ্ছে হাসিনা বলছেন, প্লেন পাঠান, আমি আসছি!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনা নানা কথা বলেন, এবার তিনি যা বললেন তা কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার সামিল। এই চ্যালেঞ্জ তিনি কাদের প্রতি ছুঁড়লেন? ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, যদি ভাইরাল হওয়া শেখ হাসিনার কথোপকথনটি সত্যি হয় তাহলে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ভারত প্রথম থেকেই হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে একেবারেই চুপ। তবে নানা মহল সূত্রে যেটা জানা যাচ্ছে এ ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তা হল, শেখ হাসিনা লুকিয়ে ভারতে আসেননি। তাঁকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও পরিবহণ বিমানে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। এবং এটা একমাত্র কোনও দেশের সরকার বা সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ ইচ্ছাতেই হওয়া সম্ভব। ফলে হাসিনার ফেরত দেওয়া বা প্রত্যর্পণের বিষয়টি তখনই সম্ভব যখন সেই দেশের নির্বাচিত সরকার আর্জি জানাবে। এ ক্ষেত্রে বলে রাখা প্রয়োজন, যে সময় হাসিনা ভারতে এসেছিলেন তখনও সরকারিভাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু এখন বাংলাদেশে একটি অনির্বাচিত এবং অবৈধ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। যাদের কোনও জনমত নেই। তাই তাঁদের আর্জি পাত্তা দিতে নারাজ নয়া দিল্লি। এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।
হাসিনা বলছেন, “আমি ঘটনাচক্রে বাংলাদেশ থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল। তবে আমি বাংলাদেশে ফিরবোই। আর যদি সাহস থাকে তাহলে প্লেন পাঠান, দেখি কার ঘাড়ে কটা মাথা আছে”। হাসিনার এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় হতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ। জানা যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, আন্তর্জাতিক আদালতের আইনজীবীদের মধ্যে এবং রাজনৈতিক কয়েকজন নেতার মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। কারণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলীকে। অন্যদিকে তিনি ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান-সহ চিফ প্রসিকিউরেটর তাজুল ইসলামদেরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়টি যে এত সহজ নয়, সেটাই তিনি বোঝাতে চাইছেন।












Discussion about this post