আসন্ন গণভোটে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কিভাবে এমন আহ্বান জানাতে পারেন মুহাম্মদ ইউনূস। এর থেকেই বোঝা যায়, আসলে তিনি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের একটা রূপরেখা তৈরির নীলনকশা নিয়ে ব্যস্ত। কারণ, তিনি যে পদে বসে আছেন, সেখান থেকে কোনও ভাবেই বাংলাদেশের মানুষকে নির্দেশ বা আহ্বান জানাতে পারেন না যে তাঁরা কোন জায়গায় ভোট দেবেন। এর অর্থ তিনি আগেভাগেই ঠিক করে দিতে চাইছেন গণভোটের ফলাফল। আর তিনিই বা কিভাবে জানলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে দেশ?
আসলে একটা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রয়েছেন সুবিধাবাদী নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানেন, জাতীয় ভোটে বিএনপি জোট ক্ষমতায় এলেই বাংলাদেশে তাঁর লীলা সাঙ্গ হয়ে যেতে পারে। তাই তিনি চাইছেন তাঁর প্রিয় ছাত্রদের দল এনসিপি এবং পাকপন্থী জামায়তে ইসলামীর ইসলামিক জোট বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসুক। অন্যদিকে যদি গণভোটে যদি বিপুল সংখ্যায় হ্যাঁ ভোট পড়ে, তাহলে জুলাই সনদ বা সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবও পাস হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি জোট ক্ষমতায় এলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য তাঁদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এটা চাইছেন। তাই প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার সমাজমাধ্যম পেজ এবং পরে তিনি নিজেই সরাসরি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এটা যে অনৈতিক, তারও ধার ধারছেন না ইউনূস সাহেব।
বরাবরের মতোই এবারও তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এটি অপ্রত্যাশিতভাবে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রথম থেকেই তিনি মিথ্যা ভাষণ দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। এখন যখন তাঁর বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন তিনি গণভোটকে হতিয়ার করতে চাইছেন। আসলে তাঁর লক্ষ্য, পরবর্তী সময়ে যে সরকারই নির্বাচিত হোক, তাতে তিনি কোনও উপায়ে যেন স্থান পান। ক্ষমতালোভী ইউনূসের লক্ষ্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়ে বসা। তাই তিনি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়া নিয়ে নির্লজ্জের মতোই দরবার করছেন। এর আগেও তিনি প্রকাশ্যে হোক বা ঘুরিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এনসিপি এবং জামাতের সুরে একাধিক বার্তা দিয়েছেন। এবার সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গণভোট নিয়ে প্রচার শুরু করে দিলেন। তাই তিনি বলছেন, “হ্যাঁ”তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। আসলে তিনি ফের কুমীরছানা দেখিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তৎপর হয়েছেন। সেই সঙ্গে চাইছেন, যেন জামাত জোট ক্ষমতায় আসে।












Discussion about this post