প্রতি বছর চাকরির উদ্দ্যেশ্যে বহু ভারতীয় বিদেশে পাড়ি দেন। কারণ বিদেশে চাকরি মানেই একটা প্রতি মাসে একটা মোটা মাইনে ।আর এই লোভেই পা দিয়ে প্রতি বছর একটা বিশাল সংখ্যক ভারতীয় ছেলে মেয়েরা বিদেশে যাত্রা করেন। আর তাতেই বিপত্তি বাড়ে। নানা ভাবেই তারা প্রতারিত হন বিদেশে গিয়ে।ভুয়ো চাকরির টোপে পা দিয়ে সর্বস্ব খোয়ানো বা নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে একাধিকবার।বিশেষ করে লাওস ও কম্বোডিয়ায় গিয়ে বেশি প্রতারিত হয়েছেন তারা। আর এবার সেই ক্ষেত্রেই সচেতন করলো ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। এই নিয়ে সচেতনতা মূলক বার্তাও জারি করেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত ভারতীয়রা কম্বোডিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলে চাকরির জন্য যাচ্ছেন তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ভুয়ো এজেন্টদের ফাঁদে পা দেবে না। এই সব অঞ্চলে একাধিক ভুয়ো এজেন্ট কাজ করছে যারা ভারতের এজেন্টদের সঙ্গে বিশেষ করে সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এই সমস্ত এজেন্টরা বিভিন্ন ভুয়ো কোম্পানির সঙ্গে জড়িত। মানুষকে বিভিন্ন ভাবে ফাঁদে ফেলছে এরা। এই সমস্ত লোকদের থেকে সতর্ক থাকুন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যাঁরা কম্বোডিয়ায় চাকরির পরিকল্পনা করছেন তাঁরা শুধুমাত্র ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অনুমোদিত এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। চাকরিপ্রার্থীরা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরো জানানো হয়েছে, লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক, তারা মোটা মনের লোভ দেখিয়ে ভারতীয়দের প্রথমে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে তারপর চাকরির ক্ষেত্রে তাদেরকে নানা ভাবে প্রতারণা করে।’ডিজিটাল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ’ অথবা ‘কাস্টোমার সাপোর্ট সার্ভিস’ এইসব সংস্থাগুলি এরকম ভুয়ো সংস্থা গুলি চাকরির অফার দিয়ে চাকরি প্রাপকদের সাথে প্রতারনা করছে। লাওসের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল স্পেশাল ইকোনোমিক জোনে এই সব ভুয়ো প্রতারকরা ঘাঁটি গেড়েছে। এই সব ভুয়ো সংস্থাগুলি ভুয়ো কল সেন্টার বা ক্রিপ্টো কারেন্সি প্রতারণার সাথে জড়িত।
এদের লক্ষ্য হলো কোনো ভাবে ভারতীয়দের কে শিকার করা। প্রথমে তাদের মোটা মাস মাইনের লোভের ফাঁদে ফেলে সহজ ইন্টারভিউ এবং টাইপিং টেস্ট নিচ্ছে। বিভিন্ন হোটেল বুকিং সহ বিমানের টিকিট কেটে দেওয়া, ভিসা তৈরি করে দেওয়ার মতো অফার করছে সেই সব ভারতীয়দের। আর এই ফাঁদে পা দিলেই বিপদ। অবৈধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাদের কে যুক্ত করে দেওয়া হয়, এমনকি ক্রমাগত তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। জোর করে তাদের কে অবৈধ নানান রকম কাজের সাথে যুক্ত করা হয়। অনেক ভারতীয় কে প্রথমে চাকরিতে নিয়োগ করিয়ে নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে থাইল্যান্ড থেকে লাওসে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি কঠোর ও বিধিনিষেধমূলক পরিস্থিতিতে লাওসের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল স্পেশাল ইকোনোমিক অঞ্চলে জোর করতে কাজ করাতে বাধ্য করা হয়’।












Discussion about this post