তদারকি সরকার ক্ষমতা থাকাকীলন একটা অভিযোগ উঠছিল যে তাদের ডিপ স্টেটের একটা বোঝাপডা় আছে। তদারকি সরকারের করা বেশ কিছু পদক্ষেপ থেকে সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। সব থেকে বড়ো প্রমাণ আমেরিকার সঙ্গে আগের সরকারের একটি বাণিজ্যচুক্তি। এই চুক্তি প্রসঙ্গে তদারকি সরকারের তরফে বলা হয়েছিল সেখানে কী কী শর্ত রয়েছে, তা প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তেই চুক্তি হয়েছে। উল্টে আমেরিকা সব শর্ত ফাঁস করে দিয়েছে। বিগত ১৮ মাসে তাদের সব কুকীর্তি ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। এবার কুকীর্তি সামনে আনলেন আগের সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিপ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। সাংবাদিক সম্মেলন করে তদারকি সরকারের কুকীর্তি ফাঁস করে দিয়েছেন। ডিপ স্টেট চেয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার আরও কয়েক বছর থেকে যাক। সাংবাদিক সম্মেলনে এই উপদেষ্টা কী বলেছেন, সে দিকে একবার চোখ রাখা যাক।
তার আগে একবার হাসিনার শাসনামল নিয়ে কিছু কথা। বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় থাকলে আমেরিকা যে তাদের কোনও স্বার্থই পূরণ হবে না সেটা তাদের বুঝতে দেরি হয়নি। তাই, তারা চেয়েছিল হাসিনা সরকারের পতন। সেটাই শেষ নয়, ক্ষমতায় এমন একজনকে বসাতে হবে, যে তাদের হয়ে দালালি করতে পারে। ইউনূস ছিলেন সেই যোগ্য লোক। ১৮ মাসল ক্ষমতায় থেকে শুধু আমেরিকার তাবেদারি করে গিয়েছেন। গোপনে নয়, প্রকাশ্যে। তাঁর শেষ দালালির ফল মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি। আমেরিকা যে ইচ্ছে মতো একটি সরকারকে বদলে দিতে পারে, তার উদাহরণ শুধু বাংলাদেশ নয়। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই অভিযোগ বা দাবি মানতে নারাজ। ২০২৫ – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ওয়াশিংটনে তাঁর একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে পর মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তাঁর জবাব ছিল এতে আমাদের কোনও ভূমিকা নয়। অথচ কিছুদিন আগে তাঁর প্রশাসন থেকে বলা হল, আমেরিকা আর রেজিম চেঞ্জের পক্ষে নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশিষ্ট অধ্যাপক জেফরি স্যাক্স বলে বসেন, পাকিস্তানের ইমরান খান সরকার আর বাংলাদেশের হাসিনা সরকারকে সরাতে ছক কষেছিল ডিপ স্টেট। নকশা তৈরি হয় সেখানে। নকশার বাস্তবায়নও হয় সেখানে বসেই। ডিপ স্টেট আসলে একটি ছায়া সরকার।
এবার ফিরে যাওয়া যাক আসিম মাহমুদের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যেন ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে– ‘ডিপ স্টেট’ এমন একটা স্ট্রাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিলো, ‘শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটি আপনারা শেষ করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।’
তিনি জানান, প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এসব গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়। ওই রোডম্যাপে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাজা বহাল রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়।’ আসিফ বলেন, আদালতের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করে বিএনপি নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার কৌশল সাজানো হয়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা সাজা বহাল থাকলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না। তার কথায় ডিপ স্টেট পুরো একটি কৌশল তৈরি করে দিয়েছিল। সেই কৌশল হল, কীভাবে তাদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকা যায়। তবে এনসিপি তাদের সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তিনি আরও বলেন, এনসিপি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিল বলেই তারা স্বেচ্ছায় অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেন।
প্রশ্ন উঠছে আমেরিকার পরবর্তী টার্গেট তবে কি তারেক রহমান সরকার? সেটা অবশ্য সময় বলবে।











Discussion about this post