একখানা মন্ত্রক হলে না হয় কথা ছিল। একসঙ্গে পেয়েছেন তিনটি মন্ত্রক। কী কী মন্ত্রক তাঁকে দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ৮০ হাজারের বেশি ভোটে তিনি জয়ী হয়েছেন। “নিউজ বর্তমান-য়ের” দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক। এই নেতার নাম শেখ রবিউল আলম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জসীম উদ্দিন সরকার। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৫৮ বছরের এই নেতা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে। ২০১৮-য়ের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এই কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে সে দফায় এই রবিউল আওয়ামী লীগের ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচন কমিশনে তিনি যে হলফনামা দিয়েছেন, সেই হলফনামা অনুসারে, তিনি স্নাতক। রয়েছে নিজস্ব ব্যবসা। ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া চাকরি থেকে তিনি বছরে ৬ লক্ষ টাকা আয় করেন। মোট বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৫০ টাকা। হলফনামা দেওয়ার সময় তার হাতে নগদ ছিল ৪ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৮৬ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর নামে জমা আছে ৪ লক্ষ এবং স্ত্রীর নামে ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৮০ টাকা। শেয়ার বাজারেও তার নামে রয়েছে ২১ লক্ষ টাকা। স্ত্রীর নামে ৯ লক্ষ টাকার শেয়ার রয়েছে। রবিউলের একার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী রয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকার মতো। সব মিলিয়ে তাঁর মোট স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫৭ লক্ষ ২২ হাজার ৬৮৬ টাকা। যদিও আয়ক রিটার্নে তিনি নিজের সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছেন, ২ কোটি ১৫ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬২৩ টাকা।
এর আগে ওই বছরের ১০ অক্টোবর ৩২ বছর বয়সী তামিমকে রবিউলের মালিকানাধীন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান প্লেজেন্ট প্রপার্টিজ লিমিটেডের কয়েকজন কর্মচারী ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, অতীতে রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা হয়েছিল, যার সবকটিতেই তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন। এসব মামলার মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল। হলফনামায় শেখ রবিউল স্পষ্ট করেছেন যে, তার বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো ঋণ নেই। তিনি একক বা যৌথভাবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলমের বিরুদ্ধে অতীতে ও বর্তমানে একাধিক মামলা রয়েছে বা ছিল। হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মোট ৭টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন বা তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে শাহবাগ ও হাজারীবাগ থানায় তদন্তাধীন মামলা ছাড়াও বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর, একটি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি আলমকে বহিষ্কার করে। এর আগে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ঢাকার রামপুরা মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় দীপ্ত টিভির ব্রডকাস্ট ইঞ্জিনিয়ার তানজিল জাহান ইসলাম তামিমকে হত্যার ঘটনায় আলমের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। এরপর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হলেও আলম আত্মগোপনে চলে যান। এই রবিউল এখন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির চর্চায় পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, একসময় যাকে পুলিশ ধরার জন্য খুঁজে বেড়াচ্ছিল, বিএনপি তাঁকে মন্ত্রী করল কী করে?
এই প্রসঙ্গে চলতি বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর একটি বক্তব্যের উল্লেখ করা যেতে পারে। সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়।












Discussion about this post