২০২৪-য়ের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের লক্ষ্য কী ছিল? বদল না বদলা? বদল এবং বদলা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে লুটে-পুটে খাওয়া আর দেশটিকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে। ক্ষমতার ইউনূস সরকারের উপদেষ্টারা আগে কত সম্পত্তির মালিক ছিলেন? আর এখন তাদের সম্পত্তির পরিমাণ কত? এই সম্পদের উৎস কোনও সাধারণ উৎস যে নয়, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কাকে ছেড়ে কাকে নিয়ে কথা বলব? আজকের প্রতিবেদন ইউনূস-গং এর আরেক সন্ত্রাসী আদিলুর রহমান শুভ্র।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল জাসদের হাত ধরে। সেই সময় তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ জাসদ ছাত্রলীগের হয়ে নির্বাচন করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মুন্সিগঞ্জ ১ আসনে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ২৪৯টি ভোট। সেই আদিলুর রহমান খানকে পূর্বতন তদারকি সরকার দিয়েছিল শিল্প মন্ত্রক। কতটা হাস্যকর, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যে ব্যক্তি নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা পর্যন্ত নেই তাঁকে রাষ্ট্রক্ষমতায় এনেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উদ্দেশ্যে যে মোটেই মহৎ ছিল না, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীাতিতে আদিলুর রহমান শুভ্র একটি বিতর্কিত নাম। একটি আলোচিত চরিত্র। আদিলুর রহমানের অতীত এবং বর্তমান ঘিরে রয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন। মানবাধিকার কর্মী হিসেবে ভূমিকা, এনজিও কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সময়ের ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক। এই আদিলুরের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ পাচারের অভিযোগ। বলা হচ্ছে, ইউনূসকে সর্বক্ষণ ঘিরে রাখতেন চারজন উপদেষ্টা। তাদের মধ্যে একজন এই আদিলুর রহমান শুভ্র।
আদিলুর রহমান শুভ্রের প্রথম এবং প্রধান পরিচয় তিনি অধিকার নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের সম্পাদক। কিন্তু আসল পরিচয় এই মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে তিনি একজন পেশাদার মানবাধিকার ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠানে অর্থ দান করে বিদেশি সংস্থা। কীভাবে টাকা আদায় বা অর্থ সংগ্রহ করতেন এই আদিলুর ? তিনি যাদের কর্মী হিসেবে দেখাতেন, তারা হয় তাঁর আত্মীয়, না হলে বন্ধু। খাতা-কলমে তাদের চাকরি দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা হাতিয়েছেন।
তদারকি সরকার বিদায় নেওয়ার পরেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি এই আদিলুর রহমান শুভ্রের। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্তবিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক বাড়ির সামনে একটি সড়ক নির্মাণ করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টাকে সুবিধা দিতে প্রভাব খাটিয়ে একটি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে জমি দখল করে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। প্রশাসনের ভাষ্য, কারও ব্যক্তিগত জমিতে নয়, নিয়ম মেনেই সরকারি জমিতে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে হাসিনার একটি সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা যেতে পারে। হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। আর তাতে কপালে ভাঁজ পড়ে এই আদিলুরের। কারণ, একটি দেশ যখন এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়, সেই সময় বিদেশি অনুদান ৩০ % হ্রাস পায়। এটা শুধু আদিলুরের জন্য চিন্তার কারণ ছিল না, তার মতো অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্নধারদের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছিল। তাই, তাদের লক্ষ্য ছিল হাসিনাকে যে কোনও উপায়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার। আদিলুরের সঙ্গে যেহেতু বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ ছিল, তাই তার পক্ষে হাসিনাকে সরিয়ে দেওয়ার কাজটি খুব সহজ ছিল। আদিলুর এবং তাঁর সমর্থকেরা বিদেশি অর্থে অস্ত্র কিনে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন তৈরি করে। ২০২৪-য়ের আন্দোলনে পথে যত রক্ত ঝড়েছিল, সেই রক্তবর্ষণের পিছনে ছিল এই আদিলুর আর তাঁর সন্ত্রাসী সঙ্গীদের প্রত্যক্ষ মদত।
এই প্রসঙ্গে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার কথা উল্লেখ করতে হয়। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর অসত্য তথ্য দেওয়ার মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। আর আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত একজনকে মন্ত্রী করেছিল পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান।












Discussion about this post