মীরজাফর শুধু ইতিহাসের পাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা যে কোনও দেশের জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশের ক্ষমতা থেকে আওয়ামী লীগের সরে যাওয়ার পিছনে দলের বেশ কয়েকজন মীরজাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, আমেরিকার বা ডিপ স্টেটের একার পক্ষে জনতার রায়ে জিতে আসা একটি দলকে কোনওভাবেই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হত না যদি না দলের সেই সব মীরজাফরদের সাহায্য পাওয়া যেতে। বাংলাদেশে সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। বলা ভালো তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি। তাই, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই মীরজাফরেরা যাতে বাগড়া দিতে না পারে, তার জন্য এখন থেকেই শীর্ষ নেতৃত্ব দলে বিরাট রকমের রদবদল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দলীয় সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্ব এই সব মীরজাফর বা বিষফোঁড়া নেতাদের একটি তালিকা তৈরি করছে। দলের কাছে এরা আসলে বোঝা হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগে শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে একটি অডিও বার্তায় বিভিন্ন প্রান্তে আত্মগোপন করে থাকা নেতাদের দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্দেশ্যে একটাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, চোখ ধাঁধানো ফলও তাদের করতে হবে। কিন্তু দলে বিষফোঁড়া বা মীরজাফরেরা থাকলে সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়, সেটা হাসিনা যেমন বুঝতে পেরেছেন, বুঝতে পেরেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের যে সব নেতারা বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছেন, তারা আওয়ামী লীগ সুপ্রিমোর নির্দেশ মেনে বিভিন্ন জায়গায় সভা করছেন। মিছিল করছেন। ৫ অগাস্টের পর থেকে যারা বিদেশ চলে যান, ইউরোপ, কানাডা বা লন্ডন যাদের পাকাপোক্ত বাসস্থানের ঠিকানা হয়ে উঠেছিল, দলের আসন্ন রদবদলে সেই সব নেতাদের ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাদ যাবেন সেই সব নেতারা যাদের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তিনটিস্তরে তারা রদবদল করবে। এই রদবলে জেলা ও মহানগর থেকে বহু নেতার উত্থান ঘটবে। প্রথমস্তর যে সব নেতার দেশের বাইরে রয়েছেন, তাদের দেশে ফেরানো। তবে ফিরতে বলা হয়েছে, তাদের যাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। দ্বিতীয়স্তরটি হল দেশের ফেরার পর সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা। তৃতীয়স্তরটি হল নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে লডা়ই করা। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন, পূর্বতন ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরেও কিন্তু দলের বহু নেতা সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে রাস্তায় নেমেছে। আর তাদের দমিয়ে রাখতে ইউনূস সরকার মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। সাজানো আদালতে তাদের বিচার হয়েছে। বিচারে তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে। দিল্লি থেকে দেওয়া অডিও বার্তায় হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশ, এই সব নেতাদের জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের হয়ে আদালতে লড়াই করত হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচার শুরু হলে জেলাস্তরে থাকা কমিটি পুর্নর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকে প্রত্যাহারের জন্য আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতৃত্ব আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটি বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলেছে। আর আওয়ামী লীগের এই জেগে ওঠায় বড় ধরনের আতঙ্কে রয়েছে ইউরোপ-আমেরিকা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও দলটিকে কোনও শক্তি নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। তার প্রমাণ মিলেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কিন্তু সেই দলের ভোটারদের ভোট টানতে বিএনপির তরফে প্রচার করা হয়েছিল। জামায়াতের তরফেও প্রচার করা হয়। বিএনপি যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তার পিছেন রয়েছে আওয়ামী লীগের একটা বড়ো অংশের ভোট।












Discussion about this post