নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে তারেক রহমানকে বিদেশের একটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক প্রশ্ন করেন বহু আওয়ামী লীগার এখনও জেলে রয়েছেন। তাদের কীভাবে রিকনসিলিয়েশন হবে? তারেকের সংক্ষিপ্ত জবাব ছিল আইনের শাসন নিশ্চিত করার মধ্যে দিয়ে। ২৩ ফেব্রুয়ারি নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “নিরীহ মানুষ যাতে ভোগান্তির শিকার না হন সে দিকে সরকারের লক্ষ্য থাকবে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই দলের যে সব নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই সব মামলা খতিয়ে দেখা হবে।” যদি কার্যক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটাই হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আদালত থেকে জামিন পেলেই অন্য মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। ডিআইজি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেঞ্জের অধীন আটটি জেলার পুলিশ সুপারদের (ডিএসবি) এই নির্দেশ পালনের কথা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ডিআইজি শাহজাহান বলেন, ‘চিঠিটা আমি ইস্যু করেছি সঠিক আছে। তবে আমার ব্যাখ্যা হচ্ছে, যারা কেবল নেতৃত্ব পর্যায় থেকে সমাজে বিশৃঙ্খলা করতে পারে – এই ধরনের লোককে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে বলেছি।
ডিআইজি শাহজাহান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। ১). কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন বা সংগঠনগুলোর যে নেতা এবং কর্মী জামিনে মুক্তির পর দলকে শক্তিশালী, সংগঠিতকরণ এবং মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা প্রদর্শন করতে সক্ষম, তাদের জামিন হওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট) হবে। আর যারা বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নয়, তাদের জামিন হলে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর প্রয়োজন আপাতত নেই। ২). প্রটোকল ও প্রটেকশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।
তবে এবার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জামিন হলেই আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া সেই ডিআইজিকে নোটিশকার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জামিনে মুক্তি পেলেই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়ায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) আইন ও সালিসকেন্দ্রের (আসক) পক্ষে আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন ও শাহীনুজ্জামান এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে ডিআইজির ওই নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রশাসনের সর্বোচ্চস্তর থেকে নির্দেশ না এলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এই ধরনের কাজ করতে পারতেন না। এই ফ্যাসিস্ট বলতে আওয়ামী লীগকেই বোঝানো হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে আওয়ামী লীগের যে সব নেতারা বিভিন্ন জেলে আটক রয়েছেন, তারা জামিন পেতে চাইলে মুচলেকা দিতে হবে যে তারা আগামীদিনে কোনওভাবেই সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেবে না। অর্থাৎ জামিন পাওয়ার পরে আওয়ামী লীগের ঝাণ্ডা ধরা যাবে না। জয় বাংলা বলা যাবে না। এদের সবাই যে কোনও না কোনও দুর্নীতিতে জড়িত, এমনটা নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠই আওয়ামী লীগের হয়ে পথে নেমেছিলেন। করেছিলেন সভা। হাসিনা দিল্লি থেকে সম্প্রতি ওয়ার্কিং কমিটির যে বৈঠক করেন, সেই বৈঠকে তিনি দলের নেতাকর্মীদের মাঠে নামার পাশাপাশি জেলে আটক নেতাদের জামিনের বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।
তবে এই ধরপাকড়ের বিষয়টি আগামী মাসে আরও বেশি করে হবে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল। যুক্তি হিসেবে তাঁরা তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে হাসিনার নির্দেশ। হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন। সামনেই বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে বদ্ধপরিকর। প্রশ্ন হল তারেক রহমান কি আওয়ামী লীগকে সেই রাস্তা তৈরি করে দেবেন? না কি ইউনূসের দেখানো পথেই তিনি হাঁটবেন?












Discussion about this post