ইতিহাস সাক্ষী এক মীরজাফরের। যদিও মীরজাফরেরা মরে না। তারা বিভিন্ন অবতারে ফিরে ফিরে আসে। এ দেশেও যেমন এসেছে, আগামীদিনে আসবে। বাংলাদেশে তারা এসেছে। আগামীদিনেও আসবে। প্রতিবেদনের শিরোনামে যে দলটির কথা বলা হয়েছে, তারাও এক ধরনের মীরজাফর। তবে তারা আরও বেশি বর্ণিল। এটা বলার কারণ, জামায়াত ঘনঘন তাদের রূপ বদল করে। বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারে জামায়াত কত ভালো ভালো কথা শুনিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা দখল করা। দলটি ক্ষমতা দখল করতে পারেনি সেটা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে না গিয়েই তারা যে সব কীর্তি করে বেড়াচ্ছে তা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা রীতিমতো উদ্বেগে। নতুন করে তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে চিনের সঙ্গে তাদের সখ্য। দুটি ঘটনার উল্লেখ করতে হয়।
গত মার্চ মাসে বেজিং সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে ঘটেছে ক্ষমতার পালাবদল। এবার সেই প্রকল্প রূপায়নে সক্রিয় হল চিন। এ ক্ষেত্রে তারা সঙ্গী করেছে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতকে। মঙ্গলবার জামায়াতে আমির তথা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলনেতা শফিকুর রহমান তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ঢাকা ১৫ তে চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে একটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, “ আমরা এই প্রকল্প শুধু সমর্থনই করব না, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের যদি আমাদের কোনও কিছু করার থাকে, সেটাও করব। কারণ আমরা দেশের কল্যাণ চাই। মানুষের কল্যাণ চাই। ” তিস্তাকে ‘বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কান্না’ বলে চিহ্নিত করে জামায়াতের আমির বলেন, “ আমরা এই কান্নার অবসান চাই। কিন্তু অতীতে এটি কেন বাস্তবায়ন হয়নি, তা সবাই বোঝে। শিশুও বোঝে। আমরা ওই লিগ্যাসি আর বহন করতে চাই না। ”
এটাই শেষ নয়। জামায়াতে আমিরের আসনে চিন ইদের ফুডপ্যাক বিলি করেছে। এই খবর দ্রুত ভাইরাল হয়। জামায়াত তাদের সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে। সেখানে দেখা গিয়েছে দলের আমির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদত ইয়াও ওয়েনকে বুকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে। যাকে বলে হাগ্লোমেসি। ফেসবুক পোস্ট নজরে পড়ে বাংলাদেশে চিন দূতাবাসের। তারা দ্রুত পাল্টা বিবৃতি জারি করে। তারা কী বলেছে, সে বিষয়ে যাওয়ার আগে ঠিক কী ঘটেছে, সে বিষয়ে দু-চার কথা।
১৭ মার্চ সকালে রাজধানীর মীরপুর ১০ নম্বর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে চিনা দূতাবাস সেখানকার বাসিন্দাদের ইদ উপলক্ষ্যে খাবারের প্যাকেট বিলি করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং এই আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলনেতা শফিকুর রহমান। ঘটনার দিন বিকেলে সাড়ে ৪টে নাগাদ ঢাকায় চিনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে ঢাকার চিনা দূতাবাস। এই সহায়তার মধ্য দিয়ে চিন আপামর বাংলাদেশ বাসীর কাছে উষ্ণতা পৌঁছে দিতে এবং বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনে সাহায্য করতে চাইছে। জামায়াত তাদের ফেসবুক পেজে কিছুটা বাড়িয়ে লিখেছে। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যে তারা চিনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে। জামায়াতের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, চিন ও জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে ফুডপ্যাক বিতরণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিন ও জামায়াতকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে চিন দূতাবাস নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে। অনুষ্ঠানের বিষয়ে দূতাবাসের ব্যাখার পর জামায়াতের আগের ফেসবুক পোস্টটি সংশোধন করা হয়। এতে বলা হয়, চিনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে ঢাকা-১৫ আসনের জনসাধারণের জন্য ফুডপ্যাক উপহার দেওয়া হয়েছে। এখন অনেকেই বুঝতে পারছেন, বলা ভালো উপলব্ধি করতে পারছে আওয়ামী লীগের অভাব।












Discussion about this post