নির্বাচন শেষ। বলা হচ্ছে এই নির্বাচন আসলে সাজানো। আগে থেকেই সব ঠিক করা ছিল। দরকার ছিল একটা সিলমোহরের। ২০২৪-য়ের জুলাই-অগাস্ট বাংলাদেশের রাজপথে সন্ত্রাসী ঘটনা থামাতে সেনাবাহিনী রাজি না হওয়ায় আওয়ামী লিগ সরকারের পতন ঘটে। সেদিন থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সামনে রেখে। ক্ষমতা দখলের আগে সেনাপ্রধান ওয়াকার বলেছিলেন তিনি জান মালের দায়িত্ব নেবেন। জনগণ যেন তার ওপর ভরসা রাখে। দীর্ঘ ১৮ মাস জুড়ে দেশ চলেছ এক মব রাজত্বের মধ্যে দিয়ে। সেনাপ্রধান ওয়াকার বার বার নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছিলেন। বলেছিলেন enough is enough. কিন্তু কিছুই হয়নি। বিদেশি মদতে ইউনূস সরকার বাংলাদেশকে একটি ভয়াবহ অবস্থায় রেখে শেষ পর্যন্ত একটি দেশি-বিদেশি চাপের কাছে নতিস্বীকার করে তিনি একটি নির্বাচনের ঘোষণা করেছিলেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা যাবতীয় মামলায় তাকে বেকসুর খালাস করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। কিন্তু এত কিছু করেও সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, সেটাই এখন বহু মূল্য প্রশ্ন।
খবর কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। নতুন সরকার গঠনের প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলিতে রদবদল ঘটান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই রদবদলকে কোনওভাবেই রুটিন মাফিক প্রশাসনিক কাজ নয়। বরং এই ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার একটি কিউরেটিং প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাক্কা এসেছে পুলিশ প্রশাসনের ওপর। আইজিপি পদ থেকে বাহারুল আলমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের যারা জড়িত বলে অভিযুক্ত, তাদের একটি নামের তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে পুলিশের মহানির্দেশক বাহারুল আলমের। এই প্রসঙ্গে তদন্ত কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ. ল. ম. ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তে যে পাঁচ পুলিশকর্তার নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন বাহারুল আলম। ঘটনার সময় তিনি এসবির কর্মকর্তা ছিলেন। স্পর্শকাতর ওই প্রতিবেদনে আইজিপির নাম আসার পর থেকেই প্রশাসনের ভিতরে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকে বলছেন, তারেক রহমান আগে থেকেই বাহারুল আলমকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেন। তিনি শুধু সময়ের অপেক্ষা করছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং পুলিশের একাধিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে বাহারুল আলমে বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। তাঁকে একটি বিদায়ী সম্বর্ধনার মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার পাকা ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বাহারুল আলম তারেক রহমানের কাছে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এছাড়া বিএনপির প্রাক্তন সাংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন পিন্টুর কারাগারে মৃত্যুর পিছনে এই বাহারুল আলমের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। পিন্টু স্মৃতিসংঘের লাগাতার আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছেন।
আইজিপি বাহারুল আলম নিজেও বুঝতে পেরেছেন, মেয়াদ পূরণের আগেই তাঁকে চলে যেতে হবে। তাই তিনি তাঁর সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন। চার্লস ডিকেন্সের বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃতির উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, গত ১৮ মাস ছিল সব থেকে শ্রেষ্ঠ সময়। সেটা যে কতটা শ্রেষ্ঠ, সেটা বোঝা যায় গত ১৮ মাসে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাপ্রবাহ। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরির সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তার বিদায় মূলত প্রশাসনে পূর্ববর্তী সরকারের প্রভাব মুছে ফেলার একটি প্রক্রিয়া। পুলিশের শীর্ষপদে রদবদলের পর এবার একটা প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করেছে। এবার কি তবে সেনাপ্রধান ওয়াকারকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে ফেলবেন তারেক রহমান?
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সেনাবাহিনীর শীর্ষপর্যায়ে এই পরিবর্তন মধ্যে নতুন চিফ অব জেনারেল স্টাফ নিয়োগ সহ বেশ কয়েকটি কৌশলগত কমান্ড ও দেশের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় বদলি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে তারেক রহমান বাহিনীর ওপর নিজের প্রভাব সুসংহত করতেই এই পদক্ষেপ করেছেন।












Discussion about this post