মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বড়ো ধরনের বিপদে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ না আসায় দেশে তেল সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের চেষ্টা চালালেও কোথাও নিশ্চয়তা মিলছে, কোথাও মিলছে না। ফলে, এপ্রিলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের একটি সূত্র বলছে, সোমবার পর্যন্ত ১৪ দিনের ডিজেল মজুত ছিল। সংকট আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় মানুষ আগেভাগেই ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল কিনে রাখতে শুরু করেছে। কোনও কোনও পেট্রোলপাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরেও মিলছে না তরল সোনা। সরকার এখন ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাম্পগুলিকে বলা হয়েছে, চাহিদার ১০ শতাংশ কম ডিজেল দিতে হবে। এর মধ্যে তৈরি হয়েছে ‘তেল পাওয়া যাবে না’ আতঙ্ক।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জানা গিয়েছিল বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৪ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। সে সময় পাম্প থেকে তেল কেনার জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে সরকার। কোন গাড়িতে কতটা তেল দেওয়া যাবে, সরকার থেকে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে তেল আসার নিশ্চয়তা পাওয়ায় সরকার আচমকাই এই রেশনিং ব্যবস্থা তুলে দেয়। এর পর থেকে তেল কেনার হিড়িক শুরু হয়। যাকে বলে panic buying. পাম্প মালিকেরা বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ করে দেন। বহু পাম্পে ক্রেতা ও সেখানকার কর্মীদের মধ্যে বচসা, বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। সরকারের কাছে পাম্প মালিকদের দাবি, সরকার এখনই পদক্ষেপ করুক। না হলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।
সময়টা ফসল ঘরে তোলার। বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কৃষিকাজেও। কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। জরুরী ভিত্তিতে তাদের জন্য জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা সরকার করতে না পারলে মাঠের ফসল মাঠে পড়ে থাকবে। তৈরি হবে খাদ্যসংকট। সে ক্ষেত্রে তারেক সরকারকে বিদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে খাদ্য শস্য আমদানি করতে হবে। কিন্তু তার জন্য রাজকোষে অর্থ থাকা দরকার। রাজকোষাগার পূর্ণ করতে পারে জ্বালানি তেল। দেশে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার প্রভাব পড়ছে সরকারি কোষাগারে। বাজারে এখন কাটা তেল বিক্রি হচ্ছে। লিটার প্রতি তেলের দাম কোথাও ২৫০ টাকা। কোথাও ৩০০ টাকা। বাধ্য হয়ে অনেকে ওই দাম দিয়ে তেল কিনছেন। সরকারি দাম লিটার পিছু ১১৬ টাকা।
রাজবাড়ির সব ফিলিং স্টেশন closed. পাম্পের চারপাশে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তেল নেই। কর্মীরা অলসভাবে বসে রয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকটে কারণে পেট্রোলপাম্প মালিকরা কী করে তাদের কর্মীদের বেতন দেবেন, তা নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। যারা ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল থেকে গ্রামে গিয়েছিলেন, তারা এখন কর্মস্থলে ফিরতে পারছে না। কারণ, জ্বালানি সংকট গণপরিবহনে প্রভাব ফেলেছে। বহু বাসমালিক আর বাস চালাতে রাজি হচ্ছেন না। দেশবাসী এর জন্য পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন। তাদের প্রশ্ন কী করে এক সঙ্গে দেশের সব পেট্রোলপাম্প জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ল? পেট্রোলপাম্পে যদি তেল না থেকে থাকে, তাহলে খোলা বাজারে কী করে তেল বিক্রি হচ্ছে? পাম্প মালিকদের বক্তব্য, ডিপো থেকে সরবরাহ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে পাম্প করে দিচ্ছেন। ঠাকুরগাঁয়ে তিন সপ্তাহ ধরে তেল নেই। আবার একই জেলার হাটে খোলাবাজারে তেল বিক্রি হচ্ছে। পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটের সঙ্গে আন্ডার ডিল না হলে কী করে খোলা বাজারে তেল চলে যাচ্ছে।
যদিও সরকার বলছে, জ্বালানিসংকট তৈরি হয়নি। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে এখনও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে। আরও কয়েকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এপ্রিলের জন্য আমদানিসূচিও চূডা়ন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে খোলা বাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল কেনা হবে। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে। তবে আতঙ্কে অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন। এর ফলে সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।












Discussion about this post