বিএনপি সহ অনেক রাজনৈতিক দলে আপত্তি উড়িয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে পূর্বতন তদারকি সরকার। সেখানে ছিল নির্বাচের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সভা ডাকা হবে। সেই ৩০ দিন শেষ হয়েছে ১৫ মার্চ। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে জামায়াত এবং এনসিপির তরফে হুঙ্কার দেওয়া হয়। বলা হয়ে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে সরকারের পতন অবসম্ভাবি। ১৫ মার্চ অধিবেশন শুরুর দিন জামায়াত বিষয়টি নিয়ে সরব হয়। জামায়াতে আমির শফিকুর রহমান স্পিকারের উদ্দেশ্য বলেন, তিনি এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে চান। জবাবে স্পিকার বলেন, এখন প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হবে। এই বিষয়ে এখন আলোচনা করা যাবে না। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হলে আপনি এই বিষয়ে সংসদে কথা বলতে পারেন। তবে তার জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আঅহমেদ বলেন, কোনও বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে হলে নোটিশ দিতে হয়। জামায়াতের তরফে যে বিষয়ে আলোচনার দাবি করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে দলের তরফে স্পিকারের কাছে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। সালাহউদ্দিন আহমেদ যে বার্তা দিয়েছেন, তা হল সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবিটি একদিকে অসাংবিধানিক। তাছাড়া বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। সালাহউদ্দি আহমেদ আইনের ব্যাখ্যা করে জানিয়ে দেন, কেন রাষ্ট্রপতি সংবিধান পরিষদের অধিবেশন ডাকতে পারবে না আর কেন এই বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য তিনি কোনও নির্দেশ দিতে পারেন না।
প্রশ্ন উঠছে, জামাতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কি? সংবিধান সংস্কার না কি তারেকের কিচেন অর্থাৎ রান্না ঘরে ঢুকে পড়া? জামায়াত জানিয়েছে, তাদের দাবি মানা না হলে তারা ইদের পর রাস্তায় নামবে। হুমকি ধমকিতে তারা সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে জামায়াতে আমির শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্য স্মরণ করা যেতে পারে। গত ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুরের কাফরুলে প্রচারের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের অনেক বন্ধু বলেন তারা ক্ষমতায় গেলে আমাদের বাদ দিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবেন। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় গেলে তিন শর্তে তাদের নিয়েই জাতীয় সরকার গঠন করব।’এখানেই শেষ নয়, জামায়াতের আমির আরও বলেছিলেন, ‘সব নাগরিকের ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা তারা দেখতে চায়। চলতি বৈষম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক অবস্থার তারা অবসান চায়। দেশের শ্রমিক ও সম্পদশালীদের মধ্যে যে আকাশচূম্বী ব্যবধান রয়েছে, সেই ব্যবধান কমিয়ে আনা ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। ’
শুধু কি জামাত। আন্তর্জাতিকমহল, বিশেষ করে আমেরিকার মিত্ররা তো ধরে নিয়েছিল যে জামায়াত ক্ষমতায় আসছে। দলের প্রধান শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবে। এই বিষয়ে আর একটি প্রসঙ্গ তোলা যেতে পারে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট গণনায় দেখা যায় বহু কেন্দ্রে তারা এগিয়ে। তবে সার্বিক ভোটের ফলে দেখা গেল জামায়াত আসনের বিচারে বিএনপি থেকে অনেকটাই পিছিয়ে। তবে তারা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আর তার জেরে তারা বিএনপি সরকারকে চাপা রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পাশে পেয়েছে এনসিপি সহ বেশ কয়েকটি বিএনপি বিরোধী দলকে। কিন্তু সরকার জানিয়ে দিয়েছে, তারা জামাতের দাবি মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকবে না। জামায়াত বলছে, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কারণ, বিএনপি একসময় এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিষয়টিকে সমর্থন করেছিল। প্রশ্ন হল জামায়াত কেন এই নিয়ে সরকারকে এতো চাপ দিচ্ছে? এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক হিসেবে নিকেশ।
এখানেই জামায়াতে আমিরের সেই জাতীয় সরকার গঠনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করতে হয়। জামায়াত এবং এনসিপির মূল লক্ষ্য কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নয়। তাদের উদ্দেশ্যে ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রবেশ করা। সেটা করতে তারা নানা কৌশল নিতে শুরু করেছে। তারা চায় মন্ত্রী হতে। চায় সমান্তরাল একটি ক্ষমতার কাঠামো নির্মাণ।












Discussion about this post