মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ থেকে রেহাই পাচ্ছে না বাংলাদেশ। হাসিনার আমলে দেশ বেশ শক্ত অর্থনৈতিক ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ইউনূস সরকারের দেড় বছরে শাসনামলে দেশটি সব দিক দিয়ে খাদের কিনারে চলে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার দেশটিকে আর ঋণ দিতে রাজি হয়নি। তারা জানিয়েছিল, সরকার বদল হলে তারা এই ঋণের ব্যাপারে নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন এক মাস পূর্ণ হয়ে গেল। এই দুই বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কিন্তু বাংলাদেশকে আর্থিক দিক থেকে সাহায্য করার কোনও প্রস্তাব বা তারা আলোচনায় রাজি থাকার বার্তা দেয়নি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর তিনি একটু একটু করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মাঝখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ তাঁর সব পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছে। এর মধ্যে আগের সরকারের একটি চুক্তি তারেক সরকারকে ভয়াবহ বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এই যুদ্ধের ফলে, বাংলাদেশের প্রতিটি দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে বহু উড়ানের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। জিনিসপত্রের দাম এই কয়দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে, এই ক্ষেত্রে সরকারের কোনও দোষ নয়। সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তারেক সরকার হয়তো মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম পরানোর চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু তাঁর পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। চলতি অর্থবর্ষ বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন হাজার বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ যে ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে চলেছে, তার মূল কারণ কি শুধুই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ? এই আর্থিক ভিত দূর্বল হওয়ার জন্য আগের সরকার ভীষণভাবে দায়ী। বহু দেশের কাছে আগের সরকার মোটা টাকার ঋণ করেছে। সেই ঋণের বোঝা এখন নতুন সরকারের কাঁধে এসে পড়েছে। বাংলাদেশের রিজার্ভ ভালো থাকলেও বিদেশ থেকে যে সব টাকা দেশে আসার কথা, সেই সব চ্যানেল এই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে, দেশে তৈরি হয়েছে একটা আর্থিক সংকট। আমরা অনেকেই জানি বাংলাদেশের শ্রমবাজার ভীষণভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সেই সব শ্রমিকে মধ্যপ্রাচ্যের সেই সব দেশে যেতে পারছে না। আবার যাদের ফিরে আসার কথা ছিল, তারা সেখানে আটকে পড়েছে। অনেকে আবার চাকরি হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা করছেন। ফলে, বহু পরিবারকে বাঁচতে হলে ঋণ নেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব ১০ থেকে ১৫টি দেশের ওপর পড়তে শুরু করেছে। এই সব দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। ইতিমধ্যে অশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে প্রবল ঝাঁকুনি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কতটা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে দিকে তাকিয়ে সে দেশের মানুষ। তারেক রহমান এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বাঁচাতে কী কী পদক্ষেপ করেন, সেটাও দেখার মতো বিষয়।
বাংলাদেশের মতো একই ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে পাকিস্তানেও। শেহবাজ শরিফ সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের দেখাদেখি বাংলাদেশও কি সেই পথে হাঁটবে। তারেক সরকারকে বেশ কয়েকটি ঘটনা তাড়া করে বেডা়বে। বলা যেতে পারে, জ্বলন্ত সমস্যা তাড়া করবে। সেই সব সমস্যার মধ্যে প্রধান সমস্যা দেশের বেকার যুবকযুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। পাশাপাশি খাদের কিনাড়ে চলে যাওয়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলার দায়িত্ব তাঁর। পালাবদলের পর ইউনূস ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর মানুষের মনের মধ্যে একটা আশার আলো তৈরি হয়। তারা সরকারের থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশ্যা করেছিলেন। কিন্তু তারা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে, একদিকে দেশকে আর্থিকদিক থেকে রক্ষা করার মতো গুরুদায়িত্ব যেমন তারেক রহমানের কাঁধে রয়েছে, কাঁধে চেপেছে দেশের জ্বলন্ত সমস্যার সমাধান করা। অনেকে বলছেন, এই অবস্থায় তারেকের পরিত্রতা হয়ে উঠতে পারেন হাসিনা। তাঁর সুপরামর্শই বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারে।












Discussion about this post