প্রতিবেদন শুরু করা যাক ইংরেজি শব্দ দিয়ে।
‘Dry Day’। ‘Dry State’। এটা বলতে ঠিক কী বোঝায়? ইংরেজি শব্দটি বাংলায় ঠিক একটি শব্দে বোঝান কিছুটা হলেও কঠিন হয়ে যাবে। যেদিন যে দেশে মদ বিক্রি করা হয় না সেদিনটিকে বলা হয় ‘Dry Day’। আর ‘Dry State’ বলতে বোঝায় যে রাজ্যে এই তরল পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ। তা বলে Dry country ? পৃথিবীর ৬৯টি দেশে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ। ভারতের চারটি রাজ্যে মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। চারটি রাজ্য হল বিহার, গুজরাত, নাগাল্যান্ড এবং মিজোরাম। Dry country-র মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। তবে প্রতিবেদনের সূত্রে বিষয়টিকে আরও মোটা দাগে ব্যবহার করা যেতে পারে। জ্বালানি সংকটের জেরে বাংলাদেশ একটি Dry country-তে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশে কী আক্ষরিক অর্থে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে? অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট সব সময় মজুদের কারণে তৈরি হয় না। সংকট তৈরি হওয়ার পিছনে কাজ করে একটা আশঙ্কা বা ভয়। আর তখন মানুষের মধ্যে জন্ম নেয় Panic Buying-য়ের। বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে রয়েছে বাস্তব সমস্যা আর মানুষের আতঙ্ক এক সঙ্গে মিশে গিয়েছে। কোথায় তৈরি হয়েছে বাস্তব সমস্যা? মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে তেল সরবরাহে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে কারণে বাংলাদেশ সহ বহু দেশে তরল সোনা সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সেখানকার বিভিন্ন রাস্তায় যে দৃশ্য দেখা দিচ্ছে, সেই দৃশ্য একদিনে বা এক রাতে তৈরি হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আমদানির সময়সূচিতে বিলম্ব এই মূলত এই তিনটি কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের মতো বাংলাদেশেও তেল আসে সমুদ্রপথে। তারপর সেখান থেকে সড়কপথে ডিপোতে পৌঁছায়। ডিপো থেকে চলে যায় বিভিন্ন পাম্পে। বলা হচ্ছে এই প্রক্রিয়ায় সামান্য ব্যাঘাত ঘটলে তার প্রভাব পড়ে সুদূর প্রসারী। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে ঈদের লম্বা ছুটি। ভারতেও দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে পালন করে। তবে বাংলাদেশ মুসলিম ধর্মামলম্বী প্রধা দেশ হওয়ায় ঈদের ছুটি থাকে লম্বা। এই সময়ে সব ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকেরা পে অর্ডার পেশ করতে পারেনি। পে অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল উত্তোলন সম্ভব নয়। সেই সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন পাম্পে মজুদ থাকা তেল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও মজুদ একসময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয় সংকট। আর মানুষের সামনে যখন এই সংকট দেখা দেয়, তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশ করে তেল কিনতে শুরু করেন। সেটা কীরকম, একটু বিশ্লেষণ করা যাক।
ধরা যাক একজন পেট্রোলপাম্পে দাঁড়িয়ে তাঁর গাড়ির ট্যাংক ভর্তি করার কথা বলছেন। তাঁর ঠিক পিছনে যিনি দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তাঁর মনে হতে পারে সম্ভাব্য সংকটের কথা মাথায় রেখেই প্রথমজন প্রয়োজনের তুলনায় পেট্রোল বা ডিজেল কিনছেন। তাঁকে দেখাদেখি, দ্বিতীয়জন একই কাজ করবেন। করবেন একের পর এক ক্রেতা। আর তখনই একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এই ছবি বাংলাদেশের সব পেট্রোলপাম্পের। কিন্তু সত্যিই কি পদ্মাপারে আক্ষরিক অর্থেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে? এই প্রসঙ্গে সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এখনও তিন থেকে চার সপ্তাহের মতো তেল দেশে মজুদ রয়েছে। যদিও সরকারের এই আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না দেশবাসী। বিশেষ করে যারা গাড়ি ব্যবহার করেন। তারা দেখেছেন, ট্রাম্পের হুমকির পরেও ইরান কিন্তু হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়নি। ফলে, জ্বালানি তেলের সংকট দ্রুত ঘনিয়ে আসবে না, এই ব্যাপারে তারা কোনওভাবেই নিশ্চিত হতে পারছেন না। বাংলাদেশে কিন্তু নতুন তেলবাহী জাহাজ প্রবেশ করেছে। শুরু হয়েছে সরবরাহ। কিন্তু মানুষের মন থেকে আতঙ্ক কোনওভাবেই মুছে ফেলা যাচ্ছে না।












Discussion about this post