বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। বিশেষ করে ইউনুস সরকারের আমলে তাদের কাজকর্ম নিয়ে জনমানসে নেতিবাচক একটা চিত্র তৈরি হয়েছে। নেতিবাচক চিত্র তৈরি হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটিলিয়নকে (র্যাব) নিয়েও। র্যাবের বিলুপ্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছে নয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে একই চিঠি দেওয়া হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফর্টিফাই রাইটস, আর্টিকেল নাইন্টিন, সিপেজি, সিভিকাস সহ নয়টি সংগঠন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চিঠিতে ইচ্ছেমতো বা বেআইনি আটক বন্ধ করা, অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, বিতর্কিত র্যাবের বিলুপ্ত করা কথা বলা হয়েছে। শেখ হাসিনার শাসনমলে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভুত হত্যা সহ নানা ধরনের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। দাবি করা হচ্ছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর এই সব ঘটনা কমে গেলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইচ্ছেমতো আটক করা, সাংবাদিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার মতো ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর নেমে আসে প্রশাসনের খাঁড়া। বৃদ্ধি পেয়েছে হিংসা। আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এমন এক পরিবেশে নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষিত রাখা জরুরী। যেখানে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো তাদের স্বাধীনতা সীমিত করতে চায়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, “ আমরা উপলব্ধি করি যে আপনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যখন বড়ো ধরনের কৌশলগত, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক চাপ বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও মানবাধিকারের জন্য বিশেষভাবে কঠিন। আন্তর্জাতিক আইনের শাসন হুমকির মুখে, অর্থনৈতিক সংকট তীব্র। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের অধিকার বিপন্ন। যদিও প্রতিটি সরকারেরই নিজের দেশের সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দিতে হয়, তবুও এটি এমন একটি সময় যখন বাংলাদেশের উচিত শুধু দেশের ভিতরেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার উন্নয়নের ভূমিকা রাখা। ” চিঠিতে মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও আইনগত সংস্কারের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, তারেক রহমানকে পরিবর্তন আনার জন্য একটি শক্তিশালী ম্যানডেট দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সেই সব মানুষের পক্ষ থেকে যারা স্বৈরাচারী সরকারকে সরিয়ে দিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল।
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে বাহিনীর প্রধান ওয়াকারের বিরুদ্ধে। ওয়াকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার কারণ তিনি আগেই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন বাহিনী বাদে অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থায় যে সব কর্মকর্তা রয়েছেন, তাঁদের কাজকর্ম খতিয়ে দেখা হবে। তারা নিয়মবহির্ভুত কোনও কাজ করে থাকলে সাজা পেতে হবে। শেখ হাসিনা জমানায় ওই অফিসারেরা সরকারের কথায় নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। পূর্বতন তদারকি সরকার ট্রাইব্যুনালে দুটি পৃথক মামলা রুজু করে। একটি বহু আলোচিত আয়না ঘর মামলা। হাসিনা জমানায় সরকার বিরোধীদের আটক করে রাখা হত আয়না ঘরে। দ্বিতীয় মামলাটি টিএফআই। জেরা করার নামে টাস্কফোর্সের অফিসারের এখানে নির্যাতন চালাতেন। এই দুই ক্ষেত্রেই দায়িত্ব ছিলেন পদস্থ সেনাকর্তারা। যদিও শেখ হাসিনা সরকার সেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেছে, অভিযোগ ভিত্তিহীন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনা ও তাঁর সময়কার মন্ত্রী ও আমলাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সেনা অফিসারদেরও অভিযুক্ত করেছেন।
র্যাব এবং সেনাবাহিনী – এই দুটি নিরাপত্তা সংস্থা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। সুতরাং এই দুটিকে কোনওভাবেই বিলুপ্ত করা যায় না। যা করা যায়, তা হল সংস্কার। তারেক রহমান সরকারের উচিত এই দুটি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সংস্কারের।












Discussion about this post