সেই প্রশ্নটা আবারও চর্কির মতো ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে প্রশ্নটা অস্বাভাবিক গতি পেয়েছে। প্রশ্নটা হল আওয়ামী লীগ কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে চলেছে? প্রশ্ন ওঠার কারণ সামনেই স্থানীয় নির্বাচন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। বলা ভালো তাদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। পূর্বতন তদারকি সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন দলের প্রতীক ফ্রিজড করে। সম্প্রতি তারেক রহমানকে একটি গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। সেই সাক্ষাৎকারে তাঁকে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তারেক রহমান সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণ করেননি। তবে জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নয়।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তারেক রহমান যে বক্তৃতা দিয়েছেন, সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরেন। বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, শেখ মুজিব কেবল একটি মাত্র দলের নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন এই ভূখণ্ডের অন্যতম প্রধান সংসদ সদস্য। তিনি ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির সূচনায় শেখ মুজিব একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের উচিত ইতিহাসের সত্যকে সাহসের সঙ্গে স্বীকার করা। তারেক আরও বলেন, জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অবস্থানকে দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারেক জিয়ার মুখে বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা শুনে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, তারেক জিয়া কি আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত করছেন।
বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির দৈনিক আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন কৌশল সাজাচ্ছে আওয়াী লীগ। দলটি এখন সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পুরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ – এই চার স্তরের নির্বাচনে কীভাবে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেই কৌশল খুঁজছে। দলটির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তাদের লক্ষ্য পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন। বিশেষ করে আইনজীবী সমিতিগুলোর নির্বাচনে কিছুটা জায়গা তৈরি করতে চায় তারা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের পদ শূন্য হয়ে যায়। এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটাকে রাজনৈতিক ‘এন্ট্রি পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা। কারণ, এসব নির্বাচনে ব্যক্তিগত প্রভাব, স্থানীয় নানা ইস্যু এবং দলীয় সমর্থন—সবই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও এই কথার ভিতরে রয়েছে অনেক কথা। প্রথমত তারেক রহমান সরকার আওয়াী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি। তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে কি না, সে বিষয়েও কোনও ইঙ্গিত সরকারের তরফে পাওয়া যায়নি।
যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আওয়ামী লীগের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, নতুন সরকারের ৩০টি কার্যদিবস অতিক্রম করলে সেই নিষেধাজ্ঞার আর কোনও বৈধতা থাকবে না। বিএনপিও সরকারও এই নিষেধাজ্ঞা সংসদে হয়তো পাশ করাবে না। কারণ, তারেক রহমান জানিয়ে দিয়েছে, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন। একবার দেখে নেওয়া যাক কী কৌশলে আওয়ামী লীগ জাতীয় রাজনীতিতে ফিরতে চাইছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক চালু করেছিল এই আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দলীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া উচিত। দলের একাংশ নেতা মনে করছেন, পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সহজ। কারণ, সেখানে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থাকলেও এতটা তীব্র নয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণের পাশাপাশি সাংগঠনিক ও মাঠপর্যায়ের নানা প্রস্তুতি নিতে হয়। ইদের পর তাঁরা সেই প্রস্তুতির কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছেন।












Discussion about this post