একটি ঘটনা একটি সরকারের রাতের ঘূম উড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ইতিহাসের পাতায় তার প্রমাণ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যে ঘটনা সেই দেশের সরকারের রাতে ঘুম কেড়ে নেয়। পুলওয়ামা হত্যাকাণ্ডের কথা ধরা যাক। দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। সাত বছর আগে এই দিনে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। একটি ঘটনা আমাদের বাহিনীর বেশ কয়েকজন জওয়ানের প্রাণ ছিনিয়ে নিয়েছে ঠিকই। সেই হামলার নিরিখে ভারতীয় সেনা পাকিস্তানকে যে ভাষায় জবাব দিয়েছে, তাতে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি দ্বিতীয়বার এই ধরনের হামলার আগে বহুবার চিন্তা করবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সেই উক্তি স্মরণ করতে হয় – ঘুসকে মারেঙ্গে। এটা ছিল পাকিস্তানের জন্য সতর্কবার্তা। সতর্কবার্তা সে দেশের সেই সব ‘বীর সন্তানদের’ জন্য যারা সে দেশের মাটিতে বসে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতার ছক তৈরি করে। পাকিস্তান এই প্রথম ভারতের বুকে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে এমনটা নয়। আগেও হয়েছে। কিন্তু পুলওয়ামা হত্যাকাণ্ড সব ঘটনাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনা উল্লেখ করার কারণ বাংলাদেশেও এমন কিছু ঘটেছে, যে ঘটনা তারেক সরকারে রীতিমতো উদ্বেগে ফেলে দেয়। সম্প্রতি কেঁপে ওটে পদ্মার বুক। গত বুধবার ২৫ মার্চ, বিকেল সোয়া পাঁচটা নাগাদ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস। বাসে যাত্রী ছিলেন মহিলা ও শিশু সহ ৫০ জন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোয়া পাঁচটা নাগাদ হাসনা হেনা নামে একটি ইউটিলিটি ফেরি এসে পন্টুনে ধাক্কা মারে। এই সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। যদিও নিউজ বর্তমান সেই সব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছ পদ্মায় পড়ে যাওয়ার পর বাসটি মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। একটি ঘটনা তারেক সরকারকে যেমন উদ্বেগের মধ্যে ফেলে, একই সঙ্গে ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য সমাধানের রাস্তাও বের করে দেয়। সেই সমাধান সূত্রটি হল দ্বিতীয় একটি পদ্মাসেতু নির্মাণ। তাছাড়া বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণ। আর ২০৩৩ সালে দ্বিতীয় যমুনা সেতু। আর ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে ঢাকা চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ।
সম্প্রতি সেতু বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রক বৈঠক করে। বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য বাজেট বরাদ্দ ও পরবর্তী দুই অর্থবর্ষের জন্য সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি পরিকল্পনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইস্তেহারে ছিল এই তিন প্রকল্প। তার প্রেক্ষিতে এই তিনটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সেতুবিভাগ। বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, ‘দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। এই সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হয়েছে। আগেও একবার সমীক্ষা করা হয়। তবে তারেক সরকার নতুন করে সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই সেতু নির্মাণে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ ও আরিচা-নগরবাড়ি নির্ধারিত থাকলেও সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর এই বিষয়ে চূডা়ন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সমীক্ষার পর একটা ধারণা পাওয়া যাবে কোথায় এই সেতু তৈরি করা হলে সেতুটি লাভজনক হবে। ’
দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণের বিষয়ে দফতর জানিয়েছেন, তাদের মাস্টাপ্ল্যান অনুসারে ২০৩২ সালের মধ্যে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সংযোগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। সেতুর দৈর্ঘ্য ৪.৯ কিলোমিটার। দ্বিতীয় পদ্মাসেতু পাটুরিয়া ও গোয়ালন্দকে যুক্ত করবে। সেই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক এন ৫ এবং এন ৭ –এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। সেতুটি তৈরি হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া তারেক সরকার নতুন একটি এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।











Discussion about this post