তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, তাঁকে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। তাদের এই ভবিষ্যদ্বাণী যে ভুল নয়, সেটা প্রতি পদে পদে টের পাচ্ছেন খোদ প্রধামন্ত্রী তারেক। জ্বালানির পর এবার সে দেশে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে তারেক সরকারকে দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন। তার আর্থিক বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মামুন তিতুমীর জানিয়েছেন, ঋণ নেওয়ার বিষয়টি এখন আলোচনায় রয়েছে। সুদের হার কী হবে, তা নিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তারেক রহমান সরকার ঋণ নেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক অর্থতহবিল (আইএমএফ) –এর সঙ্গে এই নিয়ে তাদের আলোচনা চলছে। যদিও আলোচনার শুরুটা করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারি সূত্রের খবর, বাংলাদেশের নতুন সরকার আসন্ন গ্রীষ্মে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করছে। ওই সময় যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় সেজন্য বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও কয়লা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে দেশটিকে। ভারতের সংস্থা রিলায়েন্স পাওয়ার বাংলাদেশকে হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।
বাংলাদেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৬ হাজার থেকে ১৬ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এই চাহিদা হয় গরমকালে। এদিকে আবার বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ২৩ হাজার ৩৩৭ মেগাওয়াট। তারপরেও এই সংকট কেন? এই প্রসঙ্গে বিশ্লেষেকরা বলছেন, প্লান্ট তৈরি করা হয়েছে আমদানির নির্ভর জ্বালানির ওপর ভিত্তি করে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সংকটে পড়ে গিয়েছে ডলার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এই আমদানি নির্ভর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এক বিশ্লেষক। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিন বৃষ্টি হওয়ায় লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। উৎপাদ হয়েছে ১১ হাজার ২৪ মেগাওয়াট।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন ১৭০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। পুরোপুরি বন্ধ ৫১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। আংশিকভাবে চালু বা বন্ধ রয়েছে ৬২টি কেন্দ্র। ফলে, বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয়। ডলারের সংকটে কারণে তারেক সরকার সেটা আমদানি করতে পারছে না। যে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে ভাড়া দিয়ে, সেসব কেন্দ্রগুলি জ্বালানির অভাবে বসে রয়েছে। তাদেরও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তাদের ১৮ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। মোট বিদ্যুর উৎপাদনের ৫১.০৫ % গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ডিজেল বা ফার্নেস তেলের ওপর নির্ভর করে ৩৪ % । আর কয়লার ওপর নির্ভর করে ৭.৮৬ শতাংশ। এ ছাড়া রয়েছে সৌর, জল এবং ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। স্পট মার্কেট থেকে সরকারকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। কয়লার সংকট থাকায় তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারকে বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিপিসি আবার দেনা শোধ করতে পারেনি বলে বহু সরবরাহকারী তাদের তেল দিচ্ছে না। সে দেশের বিদ্যুৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ এই খাতের শতকরা ৯০ ভাগ জ্বালানি আমদানি করতে হবে।
বাংলাদেশ এনার্জি কমিশনের সদস্য মকবুল ইলাহী বলেন, ‘ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি সাময়িক সময়ের জন্য ভালো ছিল। আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতাই বিদ্যুতের এই বিপদ ঘটিয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস থাকার পরেও আমরা তা উত্তোলন করতে পারছি না। কয়লার ব্যাপারে পরিবেশবিদেরা বাধা দিচ্ছেন। ফলে, এতোদিক থেকে বাধা এলে তো বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হবে। ’ এই অবস্থায় ভারত তাদের একমাত্র পরিত্রাতা হয়ে উঠতে পারে।












Discussion about this post