বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং জামায়াতের ভোল বদল নিয়ে কী বলা যেতে পারে? একি কথা শুনি আজি তব মন্থরার মুখে? না কি আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা? কারণ, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কিছুদিন আগে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “বিএনপি থেকে উচ্চপদে আসীন নেতা আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে, ‘আপনার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে আমরা নই। আমি বলব যে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটা গ্রুপ হয়ে যায়। আর আরেকটা গ্রুপ হয়ে যায়, তাদের আপনারা সবাই চেনেন। তবে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। উদ্যোগটা ব্যর্থ হলো বিএনপি ও তাদের জোটের কারণে। একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক দল যে স্ট্যান্ডটা নিয়েছে, সেটাকে সরকার তখন সমর্থন করতে বাধ্য হল।”
এই সাক্ষাৎকারের সব থেকে বড়ো বিষয় রাষ্ট্রপতি জানিয়ে দেন, বিএনপি চাইলে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থেকে যাবেন। আর বিএনপি যদি রাষ্ট্রপতি পদে অন্য কাউকে নিয়োগ করে তাহলে তিনি আপত্তি জানাবেন না। অনেকে বলছেন, রাষ্ট্রপতি এই মন্তব্য করেছেন তারেক রহমানের ইঙ্গিতে এবং নির্দেশে। তারা এও বলছেন, তারেক রহমান নির্দেশ দিলেই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি আওয়ামী লীগকে যা নয় তাই বলেছেন। অথচ এই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আজ যে জায়গায় পৌঁছছেন সেটা আওয়ামী লীগের দৌলতেই। এবার দেখা যাক জামাতের ভোলবদল।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সংসদে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে জামাত নেতারা স্লোগান দেন। শুধু জামাত কেন, এনসিপি সহ বিরোধীদল বিক্ষোভ দেখায়। জামাতের বক্তব্য রাষ্ট্রপতি চুপ্পু অতীতে সংঘঠিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি। অথচ তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক। দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪-য়ের ৫ অগাস্ট জাতির উদ্দেশ্য দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছিলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। তিনি সেই পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেটা অস্বীকার করেন। এতে তিনি জাতির প্রতি মিথ্যাচার করেছেন। জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে জামায়াতে আমিরের তৃতীয় অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংস্কার পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য – এই দুই ভূমিকায় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি একাধিক অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সংস্কার পরিষদের আহ্বান করার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতি তা করেননি।
এখন সেই জামাত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেন এই ভোলবদল, তা নিয়ে কিছু কথা। দলটি চাইছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। জামায়াত এখন যা চাইছে, সেটা রাষ্ট্রপতির হাতকেই শক্ত করবে। একদিকে তাদের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি, অপরদিকে রাষ্ট্রপতির হাতকে তারা শক্ত করতে চাইছে। বিএনপি জামায়াতের দাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে জামায়াতের আমিরের ক্ষমতা কিছু বাড়বে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাও বাড়বে। তাকে আর মন্ত্রিপরিষদের দেওয়া নোট পড়তে হবে না। তিনি ঠিক করবেন কী বলবেন, কী বিষয়ে বলবেন। বেশ কিছু পদে স্বাধীনভাবে নিয়োগও দিতে পারবেন। ঠিক এই কারণেই জামায়াত জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তারা এই ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দির চুপ্পুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এখন জামায়াতের দাবি মেনে রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়। জামায়াত বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির অভিমুখ যে বদলে গিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আগামীদিনে আর কি চমক রয়েছে, সেটাই এখন আমাদের সকলের দেখার বিষয়।












Discussion about this post