রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র। এই কেন্দ্র নিয়ে পদ্মাপারের কম আলোচনা হয়নি। আলোচনা হওয়ার কারণ একাধিক। প্রথমত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল ২০২৩য়ে। সেটা পিছিয়ে গিয়েছে তিন বছর। ফলে প্রকল্পের খরচ বেড়েছে। বর্তমানে বিএনপি এখন ক্ষমতায়। তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার জন্য পূর্বতন আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করেছে। বর্তমান সরকার বলছে, আওয়ামী লীগ রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ে ভুল বুঝিয়েছে। গত ১২ মার্চ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানির লোডিং শুরু হবে। চলতি বছর ডিসেম্বর থেকে ১২ শো মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে শুরু করবে দেশবাসী। প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিট ১ এর সব প্রস্তুতিমূলক কাজ আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে শেষ হবে। এর পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কমিশনিং করবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রুশ ঠিকাদার গত সপ্তাহে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ইউনিট- ১ এবং ৭ এপ্রিল থেকে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে। আশা করছি জুলাইয়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু করে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।’ তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যদি এই সময়সূচি ধরে এগোয়, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। ’ এর আগে গত ৮ মার্চ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রূপপুর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বি়জ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের নেতৃত্বে যাওয়া প্রতিনিধি দল কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ‘সফরের সময় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিদর্শন সহ সব কাজ ২৭ মার্চের মধ্যে শেষ করা হবে। ’তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলে ইউনিট-১ জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য কমিশন লাইসেন্স পাবে।
প্রকল্প ও এনপিসিবিএল কর্মকর্তারা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, ইউনিট-১ দ্রুত চালু করতে তারা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। এর ওপর ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন তৈরির জন্য পরিদর্শন চলছে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত এক হাজার ৬৫০টি পরিদর্শন শেষ হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’
প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় প্রতি ইউনিটের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা। তিন বছর আগে প্রতি ইউনিটের খরচ ছিল ৬ টাকা। এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। ২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ২০২১-য়ের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও মহামারীর জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরও বিলম্বিত হয়। সংশোধিত অনুমোদনের ফলে এর শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ব্যয় ছিল ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেটা ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। বৃদ্ধির হার ২২.৬৩ % । রূপপুর বিদুৎকেন্দ্রসহ একনেকে অনুমোদন পাওয়া ২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ, বৈদেশিক ঋণের ৩২ হাজার ৯৮ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ফলে, সরকারের খরচ বাড়ছে। তৈরি হয়েছে এক ঘোর অনিশ্চয়তা।












Discussion about this post