নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবারেও অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজে গতি আনার লক্ষ্যে তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছেন। বিএনপির জয়ী সাংসদরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না। ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় দলের বৈঠক করেন তারেক রহমান। এটাই প্রথম বৈঠক। বৈঠকে গৃহীত হয় যে কোনও মন্ত্রী শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না। পাশাপাশি তাঁরা সরকারি বরাদ্দ কোনও প্লটও নেবেন না। দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বিএনপির এমপিরা কেউ শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ব্যয় সংকোচের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মন্ত্রীদের অহেতুক অর্থ খরচ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে সচিবালয়ে। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হলে মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে আসতে একটা জট তৈরি হয়। ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। সেই সব কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী অধিকাংশ বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তারেক রহমান আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত হল সরকারি গাড়ির পরিবর্তে তারেক নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করবেন। গাড়ির জন্য জ্বালানি তিনি নিজেই কিনবেন। বুধবার তিনি গিয়েছিলে সাভার ও শের-এ-বাংলায়। গিয়েছিলেন নিজের গাড়ি টয়োটায় চেপে। সেখান থেকে সচিবালয় যান ওই গাড়িতে। যান-জটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এতোদিন প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ছিল ১৩ থেকে ১৪। সেটা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে গাড়ি ব্যবহার করবেন, সেই গাড়িতে থাকবে না জাতীয় পতাকা। বিদেশি কোনও অতিথি এলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া বা তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় গাড়ির বনেটের সামনে থাকবে জাতীয় পতাকা।
তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ফ্যামিল কার্ডের কথা বলেছিলেন। কাজ শুরুর প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্ব বাস্তবায়নের জন্য সমস্ত মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে ঠিক হয়েছে, ঈদের আগে, অর্থাৎ এ মাসের মধ্যে তিনি ফ্যামিল কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু হবে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এই ফ্যামিলি কার্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা মানুষজনদের আড়াই লক্ষ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দেবে সরকার। অনেকে মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অনুপ্রেরণা রয়েছে বাংলাদেশে বিএনপির এই ফ্যামিলি কার্ডে। প্রকল্প রূপায়নের জন্য শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে পর পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেয়েছেন ইদের আগেই এই প্রকল্প চালু করতে। কিছু হতদরিদ্র মানুষকে নিয়ে অন্তত একটি পাইলট প্রজেক্ট শুরু করুক সরকার। ঠিক হয়েছে সেটাই করা হবে। তথ্যমন্ত্রী জহিরুদ্দিন স্বপন বলেছেন, “প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে ফ্যামিল কার্ড গ্রাহকদের নগদ টাকা দেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে মহিলাদের দেওয়া হবে অগ্রাধিকার। ”
পরিবেশমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্যীয়ান নেতা আব্দুল আউল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, “এই কার্ড মূলত সার্বজনীন করার লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পর্যায়ক্রমে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারদের এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে। মিন্টুর দাবি, অনেকে আশঙ্কা করছেন প্রতিশ্রুত কার্ড চালু করতে দেরি হলে এবং মানুষ হাতে কার্ড না পেলে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঞ্চার হবে। তেমন আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। ধাপে ধাপে এই কার্ড চালু হয়ে যাবে। ”












Discussion about this post