প্রতিবেদনের সূত্রে হ-য-ব-র-লয়ের সেই ব্যাকরণ সিংয়ের কথা বলতেই হয়। সেই মূলত একটি ছাগল। নিজেকে সে খাদ্যবিশারদ বলে দাবি করে। এমন কিছু নেই যা সে খায়নি। তার গলায় ঝোলা সার্টিফিকেটে লেখা B.A। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় খাদ্য। তাই তিনি নিজেকে গর্বের সঙ্গে খাদ্যবিশারদ বলে থাকেন। ছাগলে কি না খায় – এই প্রবাদ যে কতখানি মিথ্যে, তাই তার প্রতিবাদ্য বিষয়। গবেষণার খাতিরে তিনি টিকটিকি চেটে দেখেছিলেন। তবে খাবারের মতো কিছু তাতে পাননি। ছোটোখাটো কাগজপত্র খেলেও মজবুত বাঁধানো বই খাবার চেষ্টা করেননি। কিন্তু আস্ত সাবান খেয়ে তাঁর ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে ভ্যাঁ করে… থুড়ি ব্যা করে তিনি তাঁর বক্তৃতা থামান।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ছাগল একটি চর্চার বিষয়বস্তু। শুরুটা হয়েছিল গান্ধিজির হাত ধরে। ১৯৪৬ সলালে তিনি নোয়াখালি এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল একটি ছাগল। নিরামিশাসী ছিলেন গান্ধিজি। দুধ খাবেন বলে ছাগলটিকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। সেই ছাগলটি চুরি হয়। সেটা শুনে গান্ধিজির প্রতিক্রিয়া ছিল তিনি খুশি যে তাঁর ছাগল কারও কাজে এসেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাগল একবার নয়, একাধিকবার ঘুরে ফিরে এসেছে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হয়। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন জিয়া। তিনি দারিদ্রদূর করতে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা শ্রেণিদের স্বনির্ভর করে তুলতে ব্ল্যাক বেঙ্গেল ছাগল বিতরণ করেন। এই প্রজাতির ছাগলেরা বছরে দুই বার বাচ্চা প্রসব করে। প্রতিবার দুই থেকে তিনটি বাচ্চার জন্ম দেয়। একটা ছাগল একটি পরিবারের আয়ের উৎস হয়ে ওঠে। বিতরণ করা কয়েক হাজার ছাগলের মধ্যে দু-একটির মৃত্যু হয়। বিষয়টি সেই সময় গণমাধ্যমের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।
সেটাই শেষ নয়। আইন-বিচার এবং সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বাংলোয় দুটি ছাগল ছিল। গত বছর ডিসেম্বরের এক রাতে ছাগল দুটি হারিয়ে যায়। পরে জানা গেল ঠিক তাঁর পাশের বাংলোয় থাকতেন এক উপদেষ্টা। তাঁর বন্ধুরা মিলে ছাগল দুটি ধরে নিয়ে গিয়ে একটিকে জবাই করেছে। এই ছাগল অপারেশনের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারির। সহযোগি হিসেবে ছিলেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা রিফাত রশিদ। বিষয়টি নিয়ে আশিফ নজরুলকে সরব হতে দেখা যায়। তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তাঁকে একটি ছাগল কিনে দিতে চেয়েছিলেন। যদিও আইনি উপদেষ্টা তা ফিরিয়ে দেন।
এবার আসা যাক আরও একজনের ছাগল প্রেম নিয়ে। ইনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য মতিউর রহমান। তাঁর ছেলে তৌফিকুর রহমান গত কোরবানি ঈদে ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনেছিলেন। ছাগল কিনেছিলেন সাদিক অ্যাগ্রো থেকে। তিনি ছাগল কিনে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। তার পর থেকে তাঁর বিলাসী জীবন-যাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা খবর ভাইরাল হতে থাকে। এক পর্যায়ে মতিউরকে এনবিআর থেকে সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে যুক্ত করা হয়। সরিয় দেওয়া হয় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালি ব্যাংক থেকে। পরে সেখান থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়ায় হয়। ছাগল বৃত্তান্ত আরও আছে। সেই কাহিনী শোনাবার আগে আরও কিছু কথা। বিরোধীদলের নেতাদের কটাক্ষ করা, তাদের সমালোচনা করতে গিয়ে ব্যবহার শুরু হয় নতুন একটি শব্দের ছাগু। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে অনেকদিন হারিয়ে গিয়েছিল ছাগল। কোরবানি ঈদের আগে সেটি আবার ফিরে আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, হাসিনার পতনের সূত্রপাত ওই ছাগলকাণ্ড। এবারের ছাগল কাণ্ড কতদূর যাবে, তা জানা নেই। ব্যাকরণ সিং এবার কিন্তু ব্যা ব্যা করে কেঁদে ফেলবে।












Discussion about this post