Below the belt. আর এটা প্রত্যাশিতই ছিল। মির্জা আব্বাস। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি অতি পরিচিত নাম। রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। হাসনাত আবদুল্লা এবং নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী সদ্য সদ্য রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছেন। মির্জা আব্বাসের মতো একজন প্রবীণ নেতার সমালোচনা কী করে করতে হয়, সেই শিক্ষাটা এদের নেই। নেই জুলাই যোদ্ধাদের সেই সব নেতাদের যারা ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করার ‘পাশ’ পেয়েছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল। জাতীয় সংগীতের সুর বাজছে। আর জামায়াত এবং সংসদে আসা সেই সব জুলাই যোদ্ধারা তখন বিপ্লব দেখাতে ব্যস্ত। দ্বিতীয় দিনেও ঘটেছে অভাবনীয় ঘটনা।
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে হাসনাত রীতিমতো তর্কে জড়িয়ে যান। সংবিধানের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে এই জুলাই বিপ্লবী অশালীন ভাষা প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা তো বটেই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাঁকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। এমনকী স্পিকার তাঁকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু কোনওভাবে তাঁকে শান্ত করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে স্পিকার মার্শাল ডেকে তাকে সংসদ থেকে বের করে দেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেখা গেল বেশ জামাত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কয়েকজন জুলাই বিপ্লবী জয়ী হয়েছেন। তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলতে শুরু করেন যে বাংলাদেশ সংসদ বছরের পর বছর ধরে যে গরিমা ধরে রেখেছিল, সেই গরিমা এবার কালিমালিপ্ত হতে চলেছে। তাদের সেই আশঙ্কা কিন্তু সত্যি হতে চলেছে। সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন এবং দ্বিতীয় দিনের ঘটনা থেকে সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক নেতার সমালোচনা হতেই পারে। একজন তরুণ নেতা একজন প্রবীণের সমালোচনা করতে পারেন। আবার একজন প্রবীণ নেতা নবীন নেতার সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু সেই সমালোচনা কোনওভাবেই শালীনতার সীমা অতিক্রম করতে পারে না। এই প্রসঙ্গে ভারতের সংসদে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। মনমোহন সিং তখন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রে ক্ষমতায় ইউপিএ। মনমোহন সিং সরকারের বিরুদ্ধে কয়লা চুরির অভিযোগ ওঠে। সংসদ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি সহ বিরোধী শিবির সংসদে স্লোগান দিতে শুরু করে – ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়, মনমোহন সিং চোর হ্যায়।’ বিরোধী শিবিরের উদ্দেশ্যে মনমোহন সিংয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল কোনও গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে চোর বলতে দেখেছেন আপনারা?
প্রায় একই দৃশ্য দেখা গেল বাংলাদেশে। তবে শুরুটা হয়েছিল হাদি হত্যার পর থেকে। আমরা সকলেই জানি যে হাদি প্রার্থী ছিলেন ঢাকা ৮ আসনে। ওই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রবীণ নেতা মির্জা আব্বাস। হাদিকে গুলি করা হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে – এই খবর শুনে হাসপাতালে চলে এই মির্জা আব্বাস। হাসপাতালে যাওয়ার খবর পায় ইনকিলাব মঞ্চ। তারা সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। তাদের অভিযোগ এই মির্জা আব্বাস হাদিকে খুন করিয়েছেন। বিক্ষোভের বহর এত বড়ো ছিল যে মির্জা আব্বাসকে সেখানে থেকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। হাদির বোন তো বলে বসেন যে দল জিয়াউর রহমানকে খুন করতে পারে, সেই দল তাঁর ভাইকে খুন করতে দ্বিধা করবে না। আর নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী তো বলে বসলেন মির্জা আব্বাস আসলে চান্দাব্বাস। শুধু কি নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি? হাসনাত আবদুল্লা এই আব্বাসকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টও করেন। পরে অবশ্য তীব্র আপত্তির জেরে হাসনাত ক্ষমা চেয়ে নেন। মির্জা আব্বাস তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এভাবে কোনওদিন অপমানিত হয়েছেন কি না, সেটা হয়তো তিনিও মনে করতে পারবেন না।












Discussion about this post