বদলে গিয়েছে বাংলাদেশ? বদল হয়েছে দেশের জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট। অনেকে বলছেন, দীর্ঘ ১৮ মাসের দুঃশাসন শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে গণতন্ত্র। যদিও গণতন্ত্রের ঘরওয়াপসি নিয়ে নানা প্রান্ত থেকে নানা মুনিরা তাদের মতো করে বিশ্লেষণ করছেন। অধিকাংশের মতে, পদ্মাপারে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে কাজ করেছে ডিপ স্টেট। কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান ও চিনের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে। এই অবস্থায় পদ্মাপারে পালাবদল না হলে এই অঞ্চলে চিনের আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা পাবে। আমেরিকা সেটা কিছুতেই হতে দিতে চায় না। যেটা কিছুটা হলেও হয়েছিল পূর্বতন তদারকি সরকারের আমলে। এই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় ওয়াশিংটনকে।
বাংলাদেশে কে ক্ষমতায় আসতে চলছে সেটা ভোটের মুখে মুখে স্পষ্ট হয়ে যায়। দিল্লিও সেভাবে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, দুই দেশের সম্পর্ক আক্ষরিক অর্থে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সম্পর্ক ছিল ক্ষমতার ভারসাম্য, কৌশলগত হিসেব এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের এক জটিল সমীকরণ। আপাতদৃষ্টিতে দুই দেশের সম্পর্ক হার্দিক হলেও এই সম্পর্ক ছিল অসম শক্তির এক দর কষাকষি। আর আজকে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সেই প্রশ্নটা আবার চর্চায়। দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক কি বন্ধুত্বপূর্ণ না কি এটা আসলে একটা দর দস্তুর করার সম্পর্ক। প্রশ্ন উঠছে, ঢাকাকে কি দিল্লি একান্তই আপন করে দেখছে? না কি দিল্লি ঢাকাকে তাদের স্বার্থের কাজে ব্যবহার করছে?
ইউনূস সরকারের আমলে দিল্লি ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। হাসিনার পতনের পর ইউনূসের সরকার ছিল দিল্লির কাছে একটা অস্থায়ী ব্যবস্থা। পাশাপাশি, যে কায়দায় মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা দখল করেন, সেই কৌশল বা কায়দা দিল্লির না পসন্দ। দিল্লির বার্তা ছিল স্পষ্ট – নির্বাচিত সরকার ছাড়া ঢাকার সঙ্গে কোনওভাবেই গভীর সম্পর্ক তৈরি করা হবে না। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কবে এতটা তলানিতে চলে গিয়েছিল, সেটা রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও বলতে পারছেন না। অনেকে বলছেন, বেগম জিয়ার আমলেও দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক এত তিক্ত ছিল না। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসছে। দিল্লি ঠিক কী চেয়েছিল? বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আর আগের মতো একমুখী হবে না বলে মনে করছেন দুই দেশের বিশ্লেষকরা। তাদের মূল্যায়ন, ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে পরিস্কার বার্তা পেয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো নিজে এবং তাঁর দলের অনেকে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বলা যেতে পারে, ভারত তাদের আশ্রয় দিয়েছিল। কূটনীতিতে যাকে বলা হয়, একটি পক্ষকে নেওয়া। দিল্লি নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার পরিবর্তে সুনির্দিষ্টভাবে একটি শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
এই সম্পর্ক কেবল মাত্র রাজনীতির আঙিনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজনীতির অঙ্গন অতিক্রম করে সেটা একসময় ২২ গজেও প্রবেশ করে। এই প্রসঙ্গে মুস্তাফিজুরের বিষয়টি উত্থাপন করা যেতে পারে। ২০২৬ সালের আইপিএল নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনলেও, বিসিসিআই-এর নির্দেশে কূটনৈতিক কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এটা একসময় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনার জন্য রাজনৈতিকমহল থেকে কূটনৈতিকমহল বাংলাদেশের ভূমিকার করা নিন্দা করে। এর পিছনে অবশ্য পাকিস্তানের হাত রয়েছে। ইসলামাবাদ ঢাকাকে দিল্লির বিরুদ্ধে উস্কে দিয়েছে।
নতুন নির্বাচনের ফলাফলকে আন্তর্জাতিকমহল স্বীকৃতি দেওয়ার পর পরিস্থিতি ঘুরতে থাকে। ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এটাকে অন্য চোখে দেখা হচ্ছে। তারেককে অভিনন্দনবার্তা দিয়ে সাউথব্লক বুঝিয়ে দিতে চাইল যে জণগনের ভোটে জিতে আসা একটি সরকারের সঙ্গে কাজ করতে তারা আগ্রহী। এখন ধীরে ধীরে ভিসা পরিষেবা চালু হলে ধরে নিতে হবে দিল্লি ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে পুনর্গঠন করতে চায়।












Discussion about this post