বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় কম্যান্ডো রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তারা না কি বাংলাদেশে অপারেশন চালিয়ে নীরবে ভারতে চলে যাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের কোনও সত্যতা কোনও তরফ থেকে যাচাই করা হয়নি। শুধু অভিযোগ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত দেড় বছরে একাধিকবার এই অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তোলা হয়েছে ইউনূস সরকারের তরফে। এই প্রসঙ্গে পিলখানা হত্যা কাণ্ডের বিষয়টি তোলা যেতে পারে। বলা হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা ছিল। এবং এই ঘটনার সঙ্গে ভারতের যোগসাজশ থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিলখানা হত্যার তদন্তে একটি কমিশন গঠনে করে। কমিশনের প্রধান করা হয় সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আলম ফজলুর রহমানকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ঢাল করে তদারকি সরকার চেয়েছিল যাবতীয় দৃশ্যপট বদলে দিতে।
ফজলুর রহমান সে সময় বলেছিলেন, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরকে দূর্বল করে দেওযার চেষ্টা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের একটি প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ না কি বলেছিলেন, তিনি এখানে অ্যাকশন করলে ভারত এখানে হস্তক্ষেপ করত। পূর্বতন তদারকি সরকারের এও দাবি ছিল, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ঘটনায় ভারতীয় বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা সহ ৭৪ জন নিহত হন। ওই সময় ৯২১জনের মতো ভারতীয় দেশে এসেছিল। তার মধ্যে ৬৭ জন ভারতীয়র হিসেব মিলছে না। হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই তদন্ত রিপোর্ট সরকারের ঘরে জমাও পড়ে। কিন্তু সেই রিপোর্ট কোনওভাবই ভারতকে দায়ী করা হয়নি। ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটা ছিল পুরোপুরি একটি ষড়যন্ত্র। ভারতকে কাঠগড়ায় তোলার জন্য নিজের মতো করে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেন। সেই তদন্ত কমিশন যে ইউনূস সরকারকে খুশি করার জন্যই রিপোর্ট দেবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
আগের সরকার ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে যে কথা বলুক না কেন, একটি বিষয় স্পষ্ট ভারত এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর অনেকটাই নির্ভর তারেক রহমানের বর্তমান বাংলাদেশ। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে পাক-চিন প্রেম প্রীতি। চিন ও পাকিস্তান দুইজনের ভারতের কাছে শত্রু। তারা আগে বাংলাদেশের মিত্র শক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও আসলে তারা তলে তলে পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছে। ইউনূস সরকারের আমলে তাদের কার্যকলাপ সেই প্রেম ভালোবাসা থেকে স্পষ্ট। ইউনূস আমলে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের যে রসায়ন ছিল, সেই রসায়ন কিন্তু বদলে গিয়েছে। এখন বাংলাদেশ ভারতের মিত্র দেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শক্তি হিসেবে ভারত অনেক আগেই আত্মপ্রকাশ করেছে। এই অবস্থায় চিন ও পাকিস্তানের চাপ প্রতিহত করতে হলে তারেক রহমানকে পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশেই নির্ভর করতে হচ্ছে। নির্ভরতা মানে সে দেশের সেনাবাহিনীতে ভারতীয় সেনার প্রবেশ নয়। এটি মূলত একটি গুজব। যা তৈরি করা হয়েছে ভারতের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করতে।
একটি দেশ অপর একটি দেশের সেনাবাহিনীর সাহায্য যে চায় না, তা ঠিক নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তো ভারতীয় সেনা সাহায্য করেছিল। বলা হচ্ছে সেই সময় ভারতীয় সেনা হাত গুটিয়ে বসে থাকলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হত। আরও জটিল হয়ে পড়ত। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। ভারতীয় সেনা তাদের ব্যারাকে ফিরে গিয়েছে। একটি স্বাধীন দেশের সেনাবাহিনী যে অপর একটি স্বাধীন দেশের সেনাবাহিনীতে ঢুকে পড়ে নিঃশব্দে অভিযান চালাতে পারে না। তাই, ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে সেটা গুজব ছাড়া আর কিছুই না।












Discussion about this post