‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই’। সংবাদ যাকে কেন্দ্র করে, তাকে নিয়ে লেখা যেতে পারে – হাদি মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই। জীবদ্দশায় যে মাইলেজ পেয়েছিলেন হাদি, মৃত্যুর পর সেই মাইলেজের রকেট গতিতে উত্থান হয়েছে। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে হাদিকে এই মাইলেজ পাইয়ে দিয়েছে পূর্বতন সরকারের কীর্তিমান উপদেষ্টারা। ক্ষমতা থেকে তারা বিদায় নেওয়ার পরেও হাদির প্রতি তাঁদের ভালোবাসা প্রেম এতটুকু কমেনি। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম এ জীবন যেন ধীরে ধীরে বীতশোক হয়। আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হাদিকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেই পোষ্ট বেশ আবেগঘন।
পোস্টে তদারকি সরকারের এই সাবেক উপদেষ্টা লিখেছেন, “ ‘ওসমান হাদি ছিলেন গণমানুষের অতিপ্রিয় মুখ। আমাকে বহু মানুষ অনুরোধ করতেন হাদি হত্যার বিচারের জন্য। আমি সরকারে থাকা অবস্থায় এই বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে হবে বলে জানিয়েছিলাম। এই আশাও ছিল যে আমাদের সরকারের মেয়াদকালে এটি সম্পন্ন হবে। ” এখানেই শেষ নয়। হাদি হত্যার বিচার শুরু না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তদারকি সরকারের প্রাক্তন এই উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি। এই হত্যার বিচার এখনও করা যায়নি। এ বছর ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার ১৭ জন তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন দেন। এই ধরনের মামলায় আদালতের পক্ষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার শুরু করা সমীচীন হয় না। এই তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তাই বিচারও শুরু করা যায়নি। ’ আসিফ নজরুল পোস্টে লিখেছেন, ‘সিআইডির তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করলে এবং তাতে নারাজি না এলে বিচার শুরু হবে। কিন্তু তদন্তে ত্রুটি, অসম্পূর্ণতা বা অন্য কোনও কারণে বাদী আবার নারাজি হলে বিচার আরও পিছিয়ে যেতে পারে।’ পোস্টের শেষে তিনি বিচারে সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যতটা ভাবি, তদন্ত আর বিচার এত সরল নয়। তবে সবার সদিচ্ছা থাকলে বিলম্ব হ্রাস করা সম্ভব। সঠিক তদন্ত ও বিচার সম্ভব। এই সদিচ্ছা আমাদের সবার থাকা উচিত। ’
এই একটা পোস্ট অনেকগুলি প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। হাদি হত্যার বিচার কি তদারকি সরকার আদৌ চেয়েছিল? এককথায় না। হাদিকে যারা মেরেছিল সেই দুই ভারতে পালিয়ে গেল কী করে? সরকারের মদত না থাকলে এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মাথার দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পালিয়ে যেতে পারে কি? হাদি হত্যার পর থেকে তদারকি সরকারের থেকে জোর গলায় বলা হচ্ছিল যে ঘটনার পিছনে হাত রয়েছে ভারতের। দিল্লি থেকে গুণ্ডা পাঠিয়ে হাদিকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু ধরা যারা পড়ল তারা ভারতের নাগরিক নয়, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। কোনও কোনও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, যে হাদি হত্যাকাণ্ডটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল তদারকি সরকার। বাংলাদেশে অবৈধ ইউনূস সরকারের আমলে শরিফ ওসমান হাদি নামে একটি ভয়ংকর রাজনৈতিক ঘুঁটি তৈরি করে, তাঁকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ বিরোধী ও ভারত বিরোধী রাজনীতিকে চরম অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাদি হত্যাকারী হিসেবে একবার আওয়ামী লীগকে, একবার ভারতকে দায়ী করে বাংলাদেশে যে ভয়ংকর মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, তা কিছুদিন চাপা ছিল। কিন্তু বিষয়টি আবার প্রকাশ্যে এসেছে। কারণ, পশ্চিবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকা বনগাঁ থেকে হাদির দুই হত্যাকারীকে গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে। পুলিশের কাছে তারা যে বয়ান দিয়েছে, তা রীতিমতো বিস্ফোরক। মনে হচ্ছে হাদি এবং হাদি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির নয়া গতিপথ শুরু হতে চলেছে। আসিফ নজরুলে এই পোস্ট আরও একটি জল্পনার জন্য দিয়েছে। সেটা হল, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পূর্বতন সরকারের কেউ না কেউ জড়িত। যে দুইজন ধরা পড়েছে, তাদের বয়ান থেকে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।












Discussion about this post