শেখ হাসিনা কি বাংলাদেশে ফিরছেন? এটা বহু চর্চিত প্রশ্ন। প্রশ্নটা আবার নতুন করে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ঘুরপাক খাচ্ছে। তার কারণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসিনাকে নিয়ে একটা পোস্ট ঘোরাঘুরি করছে। সেই পোস্টে লেখা হয়েছে দেশে ফিরছেন হাসিনা। আগামী ২৬ মার্চ তিনি বাংলাদেশে আসছেন। প্রথমেই যাবেন টুঙ্গিপাড়া। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। তারপর তিনি রাজনীতির ময়দানে পা রাখবেন। হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর আগেও একাধিক পোস্ট আমাদের নজরে এসেছে। হাসিনা নিজেও বেশ কয়েকবার বলেছেন, তিনি দেশে ফিরতে বদ্ধপরিকর। একটি অডিও বার্তায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল পূর্বতন সরকার প্রধানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে। বলেছিলেন, তিনি একটা হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দিলেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। তবে নতুন করে হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চর্চা হওয়ার কারণ ক্ষমতা পালাবদল। বাংলাদেশে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সংসদে দেওয়া ভাষণে তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার প্রশংসা। তাছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগের দফতর খোলা শুরু হয়েছে। এই পালাবদলের প্রেক্ষিতে সামাজিক য়োগাযোগ মাধ্যমে হাসিনার ঘরওয়াপসি নিয়ে যো পোস্ট ঘোরাঘুরি করছে, তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলস্তরের নেতারা মনে করছেন, এটাই এখন তাদের দেশে ফেরার সব থেকে ভালো সময়। শেখ হাসিনা সম্প্রতি দিল্লিতে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বৈঠকে দলের আত্মগোপন করে থাকা নেতাদের তিনি দেশে ফেরার আহ্বান জানান। তাঁর এই বার্তার মূল কারণ বাংলাদেশে সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। হাসিনা চাইছেন তাঁর দল এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে, তাহলে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে। দলকে বাঁচাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরী।
বিএনপির একাংশ কিন্তু মনে করে জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা অত্যন্ত জরুরী। জামাত আত্মপ্রকাশ করেছে। জাতীয় সংসদে তারা প্রধান বিরোধী দল। জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে তারা একটি বৈঠক ডাকে। সংসদে তাদের রণনীতি কী হবে, সেটা নির্ধারণ করতেই তাদের এই বৈঠক। জামায়াত যে বিএনপিকে কোনভাবেই জমি ছেড়ে দেবে না, তার প্রমাণ পাওয়া গেল সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই। যদিও তাদের কার্যপ্রণালী নিয়ে নানা প্রান্তে শুরু হয়েছে সমালোচনা। কারণ, বিউগেলে যখন জাতীয় সংগীতের সুর বাজছিল, সেই সময় জামাতের সংসদ সদস্যদের দেখা গেল বসে থাকতে। যদিও পরে তারা উঠে দাঁড়ায়। জাতীয় সংগীত তখন প্রায় শেষের দিকে। তবে জামাত যেভাবে সংসদে সরব হয়েছে, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট যে বিএনপি সরকারকে তারা নানা ইস্যুতে চাপে রাখবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনওভাবে জামাত যদি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে, সে ক্ষেত্রে বিএনপির কাছে সেটা বাড়তি রাজনৈতিক চাপ হয়ে উঠবে। এই অবস্থায় তাদের স্বস্তি দিতে পারে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছে, তারেক রহমান নিজেও চাইছেন জাতীয় রাজনীতিতে আওয়াী লীগ ফিরে আসুক। অনেকে আবার বলছেন, আওয়ামী লীগকে ফিরতে হলে হাসিনাকে বাদ দিয়েই ফিরতে হবে। কারণ, হাসিনার ওপর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ রয়েছে। সেই শাস্তি মাথায় করে তাঁর দেশে ফেরাটা আওয়ামী লীগ বিরোধিদের কাছে একটা অস্ত্র হয়ে উঠবে। যে বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই, তা হল বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির হাওয়া এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে।












Discussion about this post