ভাবাই যায়না। আবার এটাও বলা যেতে পারে, ঘটনায় অবাক হওয়ার মতো কিছুই হয়নি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন বদল নয়, বদলার রাজনীতি করতে, সেটা প্রথম দিকে বোঝা না গেলেও সময় যত গড়িয়েছে তাঁর সেই নির্লজ্জ দৃষ্টিভঙ্গী এবং মুখোশ খুলে পড়েছে। হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করেছিল পূর্বতন তদারকি সরকার। কেরানিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিশু জিহাদ নিহত হয়েছে – এমন অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের ১২৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম রাজু। সেই মামলায় হাসিনা সহ ১২৪জন নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আবদুল নূর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিচারক আদেশে বলেছেন, মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, এটি হত্যা মামলা হলেও ভুক্তভোগী জীবিত রয়েছে। তিনি শুধু জখমপ্রাপ্ত হয়েছেন। যা স্বয়ং নিজেই আদালতে স্বীকার করেছে। এ অবস্থায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হল। আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, এটি হত্যা মামলা হলেও ভুক্তভোগী জীবিত রয়েছে। তিনি শুধু জখমপ্রাপ্ত হয়েছেন; যা স্বয়ং নিজেই আদালতে স্বীকার করেছে। এ অবস্থায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হল।
জহিরুল ইসলাম রাজু অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওয়াশপুর বছিলা ব্রিজের নিচে আসামিদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে জিহাদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অভিযোগে একই বছরের ৮ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন রাজু । মামলায় শেখ হাসিনাসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিসহ ১২৪ জনকে আসামি করা হয়। এই রায় প্রসঙ্গে এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ওই সময়ে (জুলাইয়ে) অনেক স্বার্থান্বেষী মহল সিন্ডিকেট করে এ ধরনের মামলা করেছে। সেগুলোতে পুলিশ তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিচ্ছে। জহিরুল ইসলাম রাজুর শাস্তির বিষয়ে ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করলে অবশ্যই অভিযুক্তের শাস্তির বিধান আইনে আছে। যদিও আমাদের দেশে এর নজির খুব কম।
এই মামলা সম্পর্কে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক বদিয়ার রহমান বলেন, “মামলাটিতে টেকনিক্যালি দুটি ভুল রয়েছে। জীবিতকে মৃত দেখানো হয়েছে। এবং আশুলিয়ার ঘটনায় কেরানীগঞ্জে মামলা দায়ের করা। দুটি সাজানো। তদন্তে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। তবে জিহাদ বেঁচে থাকায় আবার নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কার প্ররোচনায় জহিরুল ইসলাম রাজু মামলা দায়ের করেছিলেন, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বদিয়ার রহমান বলেন, এই বিষয়ে তার কাছে কোনও তথ্য নেই। যিনি মামলা দায়ের করেছেন, তিনি এই বিষয়ে বলতে পারেন। ” পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, জিহাদ মারা যায়নি। সে সুস্থ। আদালতে সে গোপন জবানবন্দি দেয়। জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে ৫ অগাস্ট বিকেলে সাভারের বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। গুলি তার বাম পায়ে লাগে। পরে তাকে এনাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তদন্তে আরও প্রমাণিত হয়েছে, ঘটনাস্থল কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অধীনে দাবি করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ডিএমপি ঢাকার হাজারীবাগ থানার অন্তর্গত এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি ঘটে সাভার এলাকায়।












Discussion about this post