শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে প্রায় দেড় বছর পার হয়ে গিয়েছে। এখনও তিনি ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন সময় পর্দার আড়ালে থেকে একাধিক অডিও বার্তা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এই প্রথম তিনি কোনও গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিলেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকার ঘিরে প্রবলভাবে ঝড় উঠেছে বাংলাদেশে। জানা যাচ্ছে, ই-মেলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারটি হয়েছে। ই-মেলে রয়টার্স সমস্ত প্রশ্নগুলি প্রেরণ করেছিল শেখ হাসিনাকে। এরপর তিনি এর মাধ্যমেই উত্তর দেন। তবে শুধু রয়টার্স নয়। আরও দুটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ এবং এএফপি। অর্থাৎ তিনটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে ক্ষমতাচুত্যির পর প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎকার দিলেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রবলভাবে আলোচিত হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। কেউ কেউ বলছেন, ইউনূস ভয় পেয়ে গিয়েছেন। তবে কি বাংলাদেশের হাওয়া ঘুরতে চলেছে?
অনেক জল্পনা শেষে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। মূলত তিনটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন তিনি। প্রথমত, তাঁর দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে। দ্বিতীয়ত, তাঁর দেশে ফেরা। এবং তৃতীয়ত, সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের বিষয়ে। তিনি বলেন, যদি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়, তবে লাখ লাখ সমর্থক ভোট বয়কট করবে।জানিয়েছেন রয়টার্সকে। বুধবার তিনি ই-মেলের মাধ্যমে এই সাক্ষাৎকারটি দেন। হাসিনা বলেছেন, তাঁর দলকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই হোক তাদের সময় তিনি দেশে ফিরবেন না। এবং তিনি ভারতেই অবস্থান করবেন। ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার। এরপরেই দেখা যায়, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অন্তবর্তী সরকার। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায্য নয়। বরং আত্মঘাতী। আগামী সরকারের অবশ্যই বৈধতা থাকতে হবে। নাহলে আওয়ামী লীগের লাখ লাখ সমর্থক নির্বাচন বয়কট করবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার আশা করছেন তিনি। এমনটাও বলেছেন। বাংলাদেশের ১২ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দীর্ঘকাল দেশটিকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন গত মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, তাদের সমর্থকদের এখনই অন্য কোনও দলকে সমর্থক করার কথা বলছি না। তারা নিজেরাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করছে। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নেপথ্যে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কিনা, সেই বিষয়ে কিছু বলেননি।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তারা খুব শীঘ্রই রায়ের বিষয়ে বলছে। এক্ষেত্রে হাসিনা বলেন, এই কার্যক্রমগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি বলেন, দোষী সাব্যস্ত করে রায় আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থকের কার্যকর করার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনা বলেন, ফেরার পরিকল্পনা নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ দেশের ভবিষ্যৎ ভূমিকা পালনে ফিরে আসবে, তবে সরকারে হোক বা বিরোধী দলে হোক..তার পরিবারে নেতৃত্বে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর ছেলে গত বছর রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দল চাইলে তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন। শেখ হাসিনা বলেন, এটা আমার বা আমার পরিবারের বিষয় না। বাংলাদেশের জন্য আমরা যা চায়, সেখানে সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে হবে। কোনও ব্যক্তি বা পরিবার আমার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। ১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁর পিতা এবং ভাই নিহত হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, দিল্লিতে তিনি মুক্তভাবে বাস করছেন। তাঁর পরিবারের সহিংস ইতিহাসের কথা মাথায় রেখে সতর্ক হয়ে রয়েছেন। তবে অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনা খুব দ্রুত ফিরছেন। তাই তিনি এই সাক্ষাৎকার দিলেন। তবে তার এই সাক্ষাৎকারে যে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কতৃপক্ষের খানিকটা ভয় ধরেছে, সেটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post