ভারত-বাংলাদেশ ভেঙে কি সত্যি নতুন কোনও রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে? সম্প্রতি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কথিত এই খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরির মার্কিন প্ল্যানের নেপথ্যে কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। বলা হচ্ছে আমেরিকা বাংলাদেশ ও ভারত ভেঙে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে ভারতের তিন পার্বত্য রাজ্য মিজোরাম, মণিপুর ও নাগাল্যান্ড এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং মায়ানমারের চিন, সাগাইং, কাচি- এই তিনটি দেশের এই প্রদেশগুলিকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে আমেরিকা একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর পিছনে আমেরিকাকে সমর্থন করছে ইউরোপের বিভিন্ন খ্রিস্টান রাষ্ট্র। এই চক্রান্তে আগে ইজরায়েলেরও ছিল। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইজরায়েল এই দুই শক্তি মিলে একটি ইহুদি-খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরি করবে। মণিপুর ও মিজোরামে আগে বেশ কিছু ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করত। বর্তমানেও তারা সেখানে বসবাস করছে। তবে অতীতের তুলনায় সংখ্যাটা কম। তারা মেনাসের বংশধর বলে দাবি করে থাকে। তাদের একটা অংশকে ইজরায়েল নিয়ে নিয়েছে। গত ৪০ বছরে প্রায় সাত হাজার ইজরায়েলি স্বদেশে ফিরে গিয়েছে। বাকি যারা রয়েছে, তাদের ২০৩০ সালের মধ্যে ইজরায়েল তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। ফলে, ইজরায়েল ইহুদি-খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে এসেছে। কিন্তু পশ্চিমা রাষ্ট্র, বিশেষ করে আমেরিকা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা ভিতরে ভিতরে সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার বড় প্রমাণ কলকাতা বিমানবন্দরের একটি ঘটনা। সেই ঘটনা উস্কে দিয়েছে হাসিনার একটি আশঙ্কা, যেটা তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছিলেন। হাসিনার আশঙ্কা ছিল, আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠন করতে চাইছে।
এবার যাওয়া যাক কলকাতা বিমানবন্দরে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ) কলকাতা বিমানবন্দর থেকে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম ম্যাথু ভ্যানডাইক। এই গ্রেফতারের পর হাসিনার সেই আশঙ্কা অনেকের মনে পড়তে শুরু করেছে। ২০২৪ সালে হাসিনা দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একাংশ নিয়ে আমেরিকা একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি সেই সময় প্রধামন্ত্রী পদে আসীন। হাসিনা তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছিলেন, এক “শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি” তথা এক বিদেশি শক্তি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেছে। যার কেন্দ্র হতে পারে বঙ্গোপসাগর। সেই সময় অনেকে তাঁর ওই মন্তব্য বা দাবিকে আমল দেননি। কিন্তু ম্যাথু গ্রেফতারের পর হাসিনার ওই দাবি ঘিরে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। এক ম্যাথু নয়। তার সঙ্গে ছিলেন আরও ছয়জন। দিল্লি এবং লখনউ থেকে গ্রেফতার করা হয় আরও ছয়জনকে। এরা হলেন নারিক হারবা পেত্রো, স্লাইভিয়াক টারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টেফানকিভ মারিয়ান, হানচারুক মাকসিম, এবং কামিনস্কি ভিক্টর।
এই সাতজন ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে এসে প্রথমে গিয়েছিল গুয়াহাটি। সেখান থেকে মিজোরামে। এই রাজ্যে যাওয়ার জন্য ‘প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট’ থাকা বাধ্যতামূলক। এই সাতজনের কাছে সেটা ছিল না। মিজোরাম থেকে তাদের মায়ানমারে নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল। এনআইএ-র আরও দাবি, ধৃতরা ইউরোপ থেকে বিপুল পরিমাণ ড্রোন এনে মিজোরাম এবং মায়ানমারের বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বা এথনিক আর্মড গ্রুপের হাতে তুলে দিয়েছে।
ম্যাথু ভ্যানডাইক নিজেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অ্যানালিস্ট হিসেবে দাবি করে আসে। একাধারে যুদ্ধের রিপোর্টার, আবার ডকুমেন্টারি পরিচালক। একাধিক দেশে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ করে। এই ম্যাথু আদতে ‘ভাড়াটে স্বাধীনতাকামী’। লিবিয়া থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেনে ‘কাজ’ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিজেই দাবি করেছে যে অন্য দেশে ‘কোভার্ট অপারেশন’ বা গোপন অভিযান চলে। ২০২৪ সালে মার্কিন সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিল। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় গদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিল। ২০১১ সালে ধরা পড়ে ছয় মাস জেলেও ছিল।












Discussion about this post