আমেরিকা কি ভারতের বন্ধু? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের নিরিখে বিচার করলে অবশ্যই বলতে হবে তিনি এবং তাঁর আমেরিকা ভারতের শুভাকাঙ্খি। কিছুদিন আগে এফবিআইয়ের ডিরেক্টরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ‘নিউজ বর্তমান’ সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে ডন সাহেব আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছেন, “মোদি খুব ভালো মানুষ। তিনি ট্রাম্পকে ভালোবাসেন। ” ভালোবাসা শব্দের ব্যাখ্যাও দেন ট্রাম্প। হ-য-ব-র-ল-য়ের সেই ফিচকে বেড়ালটার মতো হাসতে হাসতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আপনাদের বুঝতে হবে, আমি বহু বছর ধরে ভারতকে লক্ষ্য করছি। আমার বন্ধু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ক্ষমতায় আছেন।” বন্ধু বলতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে চেয়েছেন। এই পর্যন্ত পড়লে যে কারও মনে হতে পারে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মোদি এবং ভারতের অত্যন্ত শুভাকাঙ্খি। গল্প অন্য জায়গায়। জন্ম যদি তব বঙ্গে তিষ্ঠ ক্ষণকাল। বলে গিয়েছেন মাইকেল।
কিছু সময়ের জন্য যাওয়া যাক একটু পিছনের দিকে। উল্লেখ করতে হয়ে শেখ হাসিনার একটি সতর্কবাণী। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী পদে তখন হাসিনা। সেই সময় তিনি একটি ভয়ংকর একটি ষড়যন্ত্রের দাবি করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে কিছু অংশ কেটে নিয়ে একটি স্বাধীন “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” তৈরির ছক কষছে এক ‘সাদা চামড়ার মানুষ।’ হাসিনা এও বলেন, বাংলাদেশে বিমান ঘাঁটি তৈরির প্রস্তাব তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। যদিও হাসিনা বলেননি, কোন দেশের তরফে তাঁকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। হাসিনা বলেন, “ আমার ক্ষমতায় আসতে অসুবিধে হবে না, যদি আমি বাংলাদেশে কারও এয়ার বেজ করতে দিই। ঘাঁটি করতে দিই। কোনও এক সাদা চামড়ার প্রস্তাব। আমি স্পষ্ট বলেছি, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে। আমরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। দেশের অংশ ভাড়া দিয়ে কারও হাতে তুলে দিয়ে আমি ক্ষমতায় যেতে চাই না। ক্ষমতার দরকার নেই। জনগণ চায় ক্ষমতায় আসব, না হলে আসব না। ”
তখন কিন্তু হাসিনার এই দাবি নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। অনেকের ধারণা হয়েছিল ভোটের আগে মানুষকে মিথ্যে ভয় দেখিয়ে নিজের পক্ষে রাখতে হয়। শুধু তিনি একা নন। ২০২৫ সালে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমার রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া বিবৃতির উল্লেখ করতে হয়। তিনি বলেছিলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করা সেনারা মিজোরাম হয়ে মায়ানমার যাচ্ছে। সেখানে তারা বিদ্রোহীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ”
দু বছর বাদে হাসিনার সেই ভবিষ্যদ্বাণী হুবহু মিলে যাচ্ছে। গত শুক্রবার জাতীয় তদন্ত সংস্থা (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি, সংক্ষেপে এনআইএ) কলকাতা বিমানবন্দর থেকে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম ম্যাথু ভ্যানডাইক। তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে। সে আমেরিকার ‘ভাড়াটে সেনা’। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জাতীয় তদন্ত সংস্থার কাছে খবর আসে যে ম্যাথু ভ্যানডাইক কলকাতায় অবতরণ করবে। একই সঙ্গে দিল্লি ও লখনউ থেকে গ্রেফতার করা হয় আরও ছয়জনকে। এরা সকলেই ইউক্রেনের নাগরিক। উত্তর-পূর্ব ভারতে বেআইনি কর্মকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযান চালানো হয়েছে অত্যন্ত গোপনে। এই সাতজন ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে এসে প্রথমে গিয়েছিল গুয়াহাটি। সেখান থেকে মিজোরামে। এই রাজ্যে যাওয়ার জন্য ‘প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট’ থাকা বাধ্যতামূলক। এই সাতজনের কাছে সেটা ছিল না। মিজোরাম থেকে তাদের মায়ানমারে নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল। এনআইএ-র আরও দাবি, ধৃতরা ইউরোপ থেকে বিপুল পরিমাণ ড্রোন এনে মিজোরাম এবং মায়ানমারের বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বা এথনিক আর্মড গ্রুপের হাতে তুলে দিয়েছে। ধৃতদের ১১ দিনে এনআইএ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। জেরা করে তাদের থেকে আরও বিস্ফোরক তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছে এনআইএ।











Discussion about this post