হাসিনা ঠিকই বলেছিলেন। কী বলেছিলেন আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো? বলেছিলেন, ইরানের পর আমেরিকার টার্গেট বাংলাদেশ। তাহলে কি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সামারিক অভিযান চালাবে আমেরিকা? ওয়াশিংটন ঢাকার বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালাবে না। তারা অন্য একটি কৌশল নিয়েছে। কৌশলটি হল বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি অংশ নিয়ে পূর্ব তিমুরের মতো খ্রিস্টান দেশ বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে আমেরিকা। আর হাসিনা কী বলেছিলেন? আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো সেই সময় প্রধানমন্ত্রী। তার সরকারি বাসভবন ‘গণভবনে’১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে বলেছিলেন, “আমার যুদ্ধ ঘরে বাইরে। চক্রান্ত এখনও আছে। পূর্ব তিমুরের ( ইন্দোনেশিয়া ভেঙে গড়ে ওঠা) মত বাংলাদেশের একটি অংশ নিয়ে… তারপরে চট্টগ্রাম, মিয়ানমার এখানে একটা খ্রিষ্টান দেশ বানাবে, বঙ্গোপসাগরে একটা ঘাঁটি করবে। ” কোনও কোনও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে, যে ইরানের পর আমেরিকার টার্গেট কিউবা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্পের পরবর্তী টার্গেটের নাম কিউবা। সিএনএনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কিউবার খুব শীঘ্রই পতন ঘটতে চলেছে। তবে বর্তমানে ইরান আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। আমাদের হাতে প্রচুর সময় রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর হামলা চালানোর জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে। এরই মধ্যে সউদী আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান।
এবার আসা যাক কেন ইরানের পর আমেরিকার নজরে বাংলাদেশ। এই ক্ষেত্রে দুটি বিষয় চলে আসছে। হাসিনা এবং তাঁর আমলে হওয়া দুর্নীতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, হাসিনার আমলে দুর্নীতি হয়নি তা নয়। কিন্তু তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী নেতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে তিনি আমেরিকার হাতের পুতুল হতে নারাজ ছিলেন। আমেরিকা চেয়েছিল সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাসিনা সেই দেশের হাতে তুলে দিক। কিন্তু হাসিনা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি ছিলেন না। হাসিনা দিল্লি থাকাকালীন বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেই সব সাক্ষাৎকারে হাসিনাকে বলতে শোনা গিয়েছিল এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কথা। বলেছিলেন, ওই দ্বীপ তিনি আমেরিকার হাতে তুলে দিলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হত না। ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়ে আমেরিকা তাদের স্বার্থ পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। তবে অনেকাংশেই তারা সফল। এবার তারা তাদের স্বার্থের বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চায়। এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার সেই ভাষণের প্রসঙ্গে উত্থাপন করতে হয়। হাসিনা বলেছিলেন, ‘বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। এ জায়গাটার ওপর অনেকেরই নজর। এ জায়গায় কোনো বিতর্ক নেই, এ নিয়ে কারও কোনো দ্বন্দ্ব নাই। সেটা আমি হতে দিচ্ছি না। এটাও আমার একটা অপরাধ। এখানে এয়ার বেজ করে কার ওপর হামলা করবে? আমাদের সব সময় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, আরও হবে। কিন্তু এটা পাত্তা দেই না, সোজা কথা। দেশের মানুষ আমাদের শক্তি, মানুষ যদি ঠিক থাকে আমরা আছি।’
দেশের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই ভীনদেশী ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা চলছে বহুদিন যাবৎ। পাহাড়ে খ্রিষ্টান মিশনারীদের অবাধ বিচরণ ও নানা চক্রান্তের তথ্যও সামনে আসে বারবার। এবার বিষয়টি নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীও উদ্বেগ প্রকাশ করায় বিষয়টি নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে। পাহাড়ে বসবাসরত একাধিক পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে অপ্রতিরোদ্ধ খ্রিষ্টান মিশনারিরা, তাদের প্রভাব এতটাই বেশী যে, অনেক সময় প্রশাসনকেও পাত্তা দিতে চায় না।












Discussion about this post