একদিকে, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের মিত্ররা। অপরদিকে, ইরান এবং তাঁর সহযোগি দেশ। এই দুই জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশ। ট্রাম্প মনে করেছিলেন, ইরানকে তিনি সহজেই কাবু করতে পারবেন। কিন্তু যুদ্ধ যখন মাঝপথে, তখন ট্রাম্পের সব হিসেব ঘেঁটে ঘ হয়ে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনা চলছে। আলোচনায় বড়ো অগ্রগতি হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, তেহরানের থেকে বড় ধরনের ছাড় তিনি আদায় করে নিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানকে তিনি ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, সংঘাত বন্ধ করতে তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছেন। তার জন্য তিনি ইরানের সঠিক মানুষের সঙ্গে কথাও বলছেন। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। তাদের দাবি, নিজেকে বাঁচাতে তিনি মিথ্যে দাবি করেছেন। ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ও দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক একই মন্তব্য করেছে।
ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান বিষয়ে একমত হতে পেরেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের মধ্যে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি। দেখা যাক, এই আলোচনা এখন কোন দিকে প্রবাহিত হয়। এখানেই শেষ নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরও দাবি, ইরান তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। আমেরিকাও ওই দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে ইচ্ছুক। তাঁর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাই জ্যারেড কুশনার এই নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইরানের কোন নেতার সঙ্গে কথা চলছে, সে বিষয়ে খোলাখুলি কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই আলোচনায় ইরানের একজন শীর্ষপর্যায়ের সম্মানিত নেতা রয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির পক্ষ থেকে তাঁকে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। মোজতাবা বেঁচে আছেন কি না, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সব দাবির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স –য়ে একটি পোস্ট করেন গালিবাফ। সেখানে তিনি লেখেন আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনও আলোচনা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা তাঁর সরকারের তরফে তাদের কাছে কোনও প্রস্তাব আসেনি। আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং আমেরিকা ও ইজরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে গিয়েছে, সেটা থাকে তারা বাঁচতে এই সব মিথ্যে দাবি করে চলেছে।
তিনি আরও একটি পোস্টে লেখেন ইরান আগ্রাসনকারীদের পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি দাবি করে। সেই লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত তারা এবং তাদের কর্মকর্তারা দৃঢ়ভাবে তাদের সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে রয়েছে। তাঁর এই পোস্টের আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই আগেই জানিয়ে দেন, আমেরিকার দাবি মিথ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অগ্রগতির আভাস দিলেও ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলা ও অঞ্চলজুড়ে তেহরান ও তাদের মিত্রদের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। আর তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, তারাও পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে। বন্ধই থাকবে।
আর এই যুদ্ধের জাঁতাকলে পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশে। সে দেশে তৈরি হয়েছে অভাবনীয় জ্বালানি সংকট। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বৈঠক ডাকতে হয়েছে। বুধবার সকালে তিনি ঢাকায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজের দফতরে এই সভা ডাকেন। অপরদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব বর্তমানে সাতের দশকের তেল সংকট এবং ’২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবের চেয়েও ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি বিশ্ব।












Discussion about this post