ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আ. লীগ যাতে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এই চক্রান্ত করেছিলেন। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল হাসিনা বিরোধী দলের নেতারা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই। বাংলাদেশকে স্বাধীনতার স্বাদ পাইয়ে দেওয়া দলটিকে জাতীয় রাজনীতির মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল, এভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে চক্রান্ত করে বেশিদিন টিকে থাকা যাবে না। বাংলাদেশে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় রাজনীতির চরিত্র বদলে যায়। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। বাংলাদেশে ফিরেছে স্বস্তি। ফলে, সেই পুরনো প্রশ্নটা নিয়ে ফের জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কি আওয়ামী লীগারদের আবার জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যাবে? হাসিনা কী দেশে ফিরতে পারবেন? এই প্রসঙ্গে তারেক রহমানের একটি বক্তব্য তুলে ধরা যেতে পারে।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যম থেকে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় আ.লীগের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তাঁর বা তাঁর দলের অবস্থান কী? তারেক কিন্তু সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করেননি। তবে জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে নন। তখন ধরে নেওয়া হয়েছিল, আ. লীগ জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসুক সেটা তারেকও চাইছেন। কারণ, জামায়াতের সঙ্গে লড়াই করতে হলে আ. লীগের মতো একটি শক্তিশালী দলের ছাতার তলায় থাকা জরুরী। একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর আ. লীগ তাদের বন্ধ থাকা দফতরগুলি খুলতে শুরু করে। কোনও কোনও জায়গা থেকে যে তাদের বাধা দেওয়া হয়নি, এমনটা নয়। তবে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই ব্যাপারে কোনও ইতিবাচক ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। ফলে, আ লীগের বাংলাদেশে ফেরার পথ যে ক্রমেই প্রশস্ত হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অবস্থায় পদ্মাপার থেকে এলো সুখবর।
জামাত সহ বিরোধীদলের বিরুদ্ধে গিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি ছিলেন বিএনপির লোক। স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি দলীয় পদে ইস্তফা দেন। স্পিকার জানিয়ে দিয়েছেন, সবাই রাজনীতি করার সুযোগ পাবে। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তে আ.লীগে খুশির হাওয়া। তারা ইতিমধ্যে রাস্তায় নেমে পড়েছে। এই প্রসঙ্গে হাদি হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করতে হয়। পূর্বতন তদারকি সরকার এবং তাদের সঙ্গীসাথীদের দাবি ছিল যে আওয়ামী লীগ সুপারি কিলার ভাড়া করে হাদিকে খুন করিয়েছে। কিন্তু হাদির দু হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন ধরা পড়েছে। ফয়সাল সম্প্রতি জানায়, যে হাদি হত্যায় জামায়াত জড়িত।
তাঁর এই বিবৃতিতে রীতিমতো ফেঁসে গিয়েছে জামায়াত। তারা এখন চুপ। এবার হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন। তিনি বলেন, যারা হাদিকে হত্যা করে উলটো বিচারের অভিনয় করে সব দোষ আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত। আসতে আসতে সব সত্য বেরিয়ে আসছে। এদেশে সব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। এদিকে, আবার ঈদে ছাত্রলীগ একটি মিছিল করে। ছাত্রলীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের করার দাবি তুলেছে। রবিবার আরও একটি মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। তারা জয় বাংলা স্লোগানও দেন। দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ আবার নতুন করে সংগঠিত হতে শুরু করেছে। তাতে বেশ চিন্তায় জামায়াত।












Discussion about this post