বাংলাদেশের নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে বেশ কয়েকটি সংস্থা তাদের জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করে। কিছু কিছু সমীক্ষায় দেখানো হয়েছিল যে জামায়াত ক্ষমতায় আসতে চলেছে। কোনও কোনও জনমত সমীক্ষায় দেখানো হয় জামায়াত বনাম বিএনপির কাঁটে কি টক্কর। দলটি যাতে বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হতে পারে, তার জন্য আমেরিকাও কম চেষ্টা চালায়নি। তাদের একটা স্বার্থ ছিল। এখানে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার। পোস্টাল ব্যালট গণনায় দেখা দিয়েছে, বহু ক্ষেত্রে তারা বিএনপির থেকে এগিয়ে। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় আসীন হতে পারেনি। তারা বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সরকারের উদ্দেশ্যে তারা হুমকিও দিয়েছে। তারেক সরকারের বিরুদ্ধে তাদের বার্তা – সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডেকে সংবিধান সংস্কার না করলে তারা ইদের পর রাস্তা নামার হুমকি দিয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ইস্যু সংবিধান সংস্কার পরিষদ। এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, “ মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকেছেন। সংস্কার পরিষদের অধিবেশন তো আহ্বান করেন নাই। আমরা জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এখন অংশগ্রহণ করছি সাংবিধানিকভাবে। ” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “ জুলাই জাতীয় সংসদ (সংবিধান সংস্কার পরিষদ) এর সদস্য হিসেবে কেউ কেউ শপথ নিয়েছেন। এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। রুল জারি করা হয়েছে। সেটা জুডিশিয়ারির বিষয়। তবে সাংবিধানিকভাবে সেরকম কোনও পরিষদের অস্তিত্ব আমাদের সামনে নেই। ” গণভোটের রায় অনুসারে এই পরিষদ গঠন বা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যদি গণভোটের রায় অনুসারে সেটা ধারণ করতে হয় সংবিধানে। সেটা সংবিধানের আগে সংশোধনী হতে হবে। সেটা নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা হবে। সংবিধান সংশোধন হলে সেই মতে সেটা সংবিধানে ধারণ করতে হবে। তারপরে যদি পরিষদ হয়, তার পরে যদি ফর্ম হয়, যদি শপথগ্রহণ করতে হয়, সেটা তার পরের ব্যাপারে।” তাঁর এই বক্তব্য পছন্দ করছে না জামায়াত। পছন্দ করছে না অন্য বিরোধী দলগুলিও। তারা এখন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর দ্বারস্থ হয়েছে। এখন প্রশ্ন অন্যত্র। ইদের পর জামায়াত যদি রাস্তায় নামে, তাহলে তারেক সরকার কি সেই আন্দোলন প্রতিহত করতে পারবে।
জামায়াত কেন সরকারের বিরুদ্ধে এতো সুর চড়াচ্ছে? বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, কথা ছিল নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সবাই শপথ নেবেন। তারা সংবিধান সংস্কার করবেন। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তারা কিন্তু সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। সালাহউদ্দিন আহমেদ শপথগ্রহণের দিন জানিয়ে দেন, তাদের দলের কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করবেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য চটিয়ে দেয় জামাতকে। প্রশ্ন উঠছে জামায়াত যেটা করছে বা দেখাচ্ছে, সেটা কি সত্যি ঘটনা? না কি তারা জামায়াতের সঙ্গে গোপনে কোনও সমঝোতা করছে?
জামায়াতের রাগের কারণ তারা বিএনপির কাছে ১২টি মন্ত্রক দাবি করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আওয়ামী সরকারের আমলে জাতীয় পার্টি যদি বিরোধী দল থেকে মন্ত্রক পেতে পারে, তাহলে তারা কেন পাবে না? তারাও এখন শেখ হাসিনার ফর্মূলায় চলতে চাইছে। এই জামায়াত ইউনূস আমলে প্রশাসনের ওপর তাদের প্রভাব খাটিয়েছিল। এখন তারা তারেক রহমান সরকারের ওপর প্রভাব খাটাতে চাইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াত ক্ষমতায় থাকার স্বাদ পেয়ে গিয়েছে। তাই, পূর্বতন সরকারে আমলে তারা যেমন সরকারের ওপর প্রভাব খাটিয়েছিল, তারা তারেক রহমান সরকারের ওপরেও প্রভাব খাটাতে চাইছে।
সংসদ অধিবেশনের শুরু হয় গত ১২ মার্চ। সংবিধানের ৭২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ওই দিন সংসদে ভাষণ দেন। পরে রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সভা মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। গত শনিবার কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত আসে। সেদিন সংবিধান পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী জোট আন্দোলনে নামার হুমকি দেয়।












Discussion about this post