এক সময় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, আপনারা আমার বিরুদ্ধে মন খুলে লিখুন। আমার যদি কোনওরকম অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে মন খুলে সমালোচনা করুন। আমি সেটা গ্রহণ করব এবং ত্রুটি সংশোধন করব। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। বরং উল্টোটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মহম্মদ ইউনূসের আমলেই দেখা যাচ্ছে, যারা তার সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের টুঁটি চেপে ধরা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কেউ কথা বললে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ কোন বাংলাদেশ? প্রশ্ন উঠছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার রিপোর্টাস ইউনিটিতে মঞ্চ ৭১ নামে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানের বক্তাদের উপর একরকম হামলা চালায়। তারা হলেন কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়ককারী, বিএনপি এবং জামাতের কয়েকজন ছাত্র যুব।
কেন তারা সেখানে জড়ো হয়েছেন সেই নিয়ে প্রতিবাদ করে তারা। এবং তারা প্রত্যেকেই নাকি আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। এমনটা বলা হয়। শুধু তাই নয়, তাদের চিহ্নিত করে তাদের ওপর মব সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তাদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। সেই বিষয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাদের নিয়ে যাওয়ার পর লতিফ সিদ্দিকী সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুর আলম পান্না সহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করে। প্রথমে তাদের আটকে রাখা হয়। তারপরে গ্রেফতার করা হয়। শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে পুলিশ মামলা রুজু করে। শাহবাগ থানার উপ পরিদর্শক তৌফিক হাসান আবেদন করেছিলেন তাদের যেন কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত জামিন মঞ্জুর করেনি তাদের।
এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সাংবাদিক মঞ্জুর আলম পান্নাকে হাত করা পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তখন সাংবাদিককে বলতে শোনা যায়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বললে কি সন্ত্রাস ছড়ানো হয়? আপনারা বলুন, আমাকে দেখে কি সন্ত্রাসবাদী মনে হচ্ছে? যে হাতে পুলিশ হাতকড়া পড়িয়েছে, সেই হাত তুলে মঞ্জুর আলম পান্না বলেন, এই হাত দিয়ে আমরা লিখি। সেটাই রোধ করার চেষ্টা চলছে। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে। শুধু তাই নয়, এই ভাবে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। ঠিক একই অভিযোগ উঠেছিল শেখ হাসিনার আমলে। তাহলে নতুন বাংলাদেশ কোথায়? শেখ হাসিনার আমলে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই একই অভিযোগ মোহাম্মদ ইউনুসের আমলেও। ফলে ইউনূসের বাংলাদেশে মানুষ যে স্বাধীন নেই, সেটা প্রমাণিত। পাশাপাশি ছাত্রনেতারা যে সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেটাও মিথ্যে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বললে, শেখ হাসিনার দোসর বলা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে গেলে শেখ হাসিনা প্রেমী বলা হচ্ছে। এখনও বাংলাদেশের বহু মানুষ রয়েছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে লালন পালন করেন। তাদের কাছে কি জবাব দেবেন মহম্মুদ ইউনূস?












Discussion about this post