ষড়যন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ‘বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্ম’ থেকে সরে যাওয়ার পরই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। উমামার অভিযোগ, শহীদ ও আহত পরিবারের সেবা প্রদানে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশন তাঁদের দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশের জনগণের সামনে যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটাও কি পুরোপুরি পালন করা হয়েছে? সময়ের সাথে সাথে সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই বরং উঠে গিয়েছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের তহবিল নিয়ে এখন আলোচনা ও বিতর্ক তুঙ্গে। সেই সঙ্গে উঠেছে বন্যাত্রাণের জন্য সংগ্রহ করা অর্থের হিসেবের নয়ছয়ের প্রশ্নও। আর প্রায় সব প্রশ্নের ক্ষেত্রেই জড়িয়ে যাচ্ছে বৈষম্যবিরোধী নেতা, তথা সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নাম। সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলন করছিলেন বর্তমান এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ। সেখানেই তিনি বন্যার টাকার হিসাব নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন। সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছয়লাপ।
মঙ্গলবার বিকেলে এনসিপির পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আয়োজন নিয়ে করা নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এনসিপির পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে গেছে, সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ। এমন সময় সামনে থেকে এক ব্যক্তি আসিফ মাহমুদকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। ওই ব্যক্তি বলতে থাকেন, ‘আপনাদের কাছে বন্যার যে টাকাগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাগুলোর কি হিসাব এখন পাওয়া যাবে? বন্যার টাকা তো ফান্ডে দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাগুলো কোথায়। স্বভাবতই এই প্রশ্নবানে যথেষ্টই বিব্রত হয়ে পড়েন ছাত্রনেতা আসিফ। সে সময় কার্যত হতচকিত হয়ে পড়েন। এ সময় ঘটনাস্থলে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। সাংবাদিকরা তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে প্রশ্নকারী নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ বলে পরিচয় দেন। হট্টগোলের মধ্যে প্রশ্নকারী আফিস মাহমুদকে ‘সন্ত্রাস’ ও ‘মববাজ’ বলেও চিৎকার জুড়ে দেন। তিনি প্রশ্ন করতে থাকেন, ‘বন্যার টাকা কোথায় গেছে, সেটি কি আমি জানতে চাইতে পারি না। উনি কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন, এই টাকা কই থেকে আসে।’
ইতিহাসের বাঁকবদল ঘটানো জুলাই আন্দোলনের হতাহতদের জন্য যে ফাউন্ডেশন গড়া হয়েছিল তাঁর টাকা নিয়েই নয়ছয়ের বিতর্ক আজকের নয়। আগেও এই অভিযোগ তুলেছেন এনসিপি ছাড়া একাধিক নেতা-নেত্রী। যদিও এ বিষয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন দাবি করেছিল, গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের সহায়তার জন্য প্রাথমিকভাবে ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু চলতি জুলাই পর্যন্ত এসেছে ১১৯ কোটি ৪২ টাকার তহবিল। কিন্তু সেই টাকারও যে হিসেব কার্যত নেই, তাও এখন প্রকাশ্যে এসেছে। জুলাই আন্দোলনে অঙ্গহানী হওয়া শতাধিক মানুষ বারংবার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁরা বহুবার দরবার করে, নানা প্রমান দাখিল করেও টাকা পাননি বলে দাবি করেছেন। জুলাই ফাউন্ডেশনও স্বীকার করেছে, তাঁরা সবাইকে আর্থিক সহায়তাও দিতে পারেনি. আর যারা পেয়েছেন, সেটাও পর্যাপ্ত নয়।
অপরদিকে ২০২৪ সালের আগস্টে ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে ফেনী ও নোয়াখালী-সহ দেশের এগারো জেলার ৭৩টি উপজেলা। বন্যার্তদের সাহায্যার্থে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ত্রাণ তুলেছিল। জানা যায় তহবিলে প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা জমা পড়ে। বন্যার্তদের সহায়তায় তাৎক্ষণিক খরচ হয়েছে প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অবশিষ্ট প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সেই টাকারও হিসেবে গড়মিল হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। বন্যার্তদের ১২ কোটি টাকার হিসাব তো দিলেন না। সেটা কবে দেবেন? বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠছে, সব টাকা পকেটে পুড়েছে ছাত্রনেতারা। আসিফের কোটি কোটি টাকার গাড়ি, বাড়ি, সারজিসের ঠাঁটবাট সবই এথন জনগণের স্ক্যানারে। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যেই আসিফদের প্রশ্ন করছেন।












Discussion about this post