হাদি হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত অঞ্চল বনগা থেকে হাদির দুই হত্যাকারী ফয়জাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে রাজ্য পুলিশের টাস্কফোর্স গ্রেফতার করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও একজনকে রাজ্যপুলিশের টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম সাংমা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে তিনি হালুয়াঘাট (বাংলাদেশ) এবং ডালুপাড়া (মেঘালয়) সীমান্ত এলাকা দিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করেছিল।
এই তিনজন ধরা পড়ার পর দুটি মূল প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। এই তিনজনকে কি বন্দীপ্রত্যর্পণ আইন অনুসারে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে? এই বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী রণধীর জয়সওয়ালকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশে বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো হবে কিনা বা তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বাংলাদেশি কর্তাদের অনুমতি দেওয়া হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র সরাসরি কোনো জবাব দেননি। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে তার বাইরে বাড়তি কিছু বলার নেই। এই বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই, এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করাটা সমীচীন হবে না।’ দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের ডিজিএফআই প্রধানের ভারতে আসা ও ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা নিয়ে। উত্তরে তিনি শুধু বলেন, ডিজিএফআই প্রধান ভারতে এসেছিলেন। রাইসিনা ডায়ালগের অবসরে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কথা বলে থাকতে পারেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা রবিবার জানান, প্রতিবেশী দেশের যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার পর সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগে ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। তার এক সপ্তাহ পর এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হল। ধৃতরা ছিলেন বাংলাদেশের পটুয়াখালির বাসিন্দা ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৩৪)। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে এসটিএফ সাংমার অবস্থান শনাক্ত করে এবং শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার শান্তিপুর বাইপাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে যে- সাংমা নিজেও একজন বাংলাদেশি নাগরিক। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে তিনি হালুয়াঘাট (বাংলাদেশ) এবং ডালুপাড়া (মেঘালয়) সীমান্ত এলাকা দিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করেছিল। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “তিনি ওই দুই অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। যখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।” রবিবার সাংমাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালত তাকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
তবে হাদির হত্যাকারীরা ধরা পড়ার পর অনেকেই আতঙ্কে ভুগছেন। তাঁরা মনে করছেন, এবার তাদের কুকীর্তি ফাঁস হতে চলেছে। হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাদের মধ্যে অনেকেই সরব ছিলেন। দাবি তুলেছিলেন ন্যায় বিচারের। সরব ছিল ইনকিলাব মঞ্চ। কিন্তু মূল অভিযুক্ত ধরা পড়ার পর তারা এখন অনেকটাই ম্রিয়মান। রিম্যান্ডে থাকাকালীন জেরায় তিনজনের কথা বলেছেন। এই তিনজনের মধ্যে একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের একজন নেতা, জুলাই আন্দোলনের একজন, সরকারের অভ্যন্তরে একজন রয়েছেন। এটা একটি চ্যানেলের দাবি। সেই দাবির সত্যতা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।












Discussion about this post