বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে জঙ্গলরাজ চলছিল। এবার নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে ততই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। কেউ কেউ এটাকে “মহাজঙ্গলরাজ” আখ্যা দিচ্ছেন। এবার দুষ্কৃতিদের হাতে নিহত হলেন স্বয়ং এক র্যাব কর্মকর্তা। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়েছিলো র্যাব সদস্যদের একটি দল। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামের ওই র্যাব কর্মকর্তা। অভিযোগ, রীতিমতো মাইকে ঘোষণা দিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা হয়। সেই হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন অংশ নিয়েছিল বলেই দাবি। এই ভয়ানক ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে শিউরে উঠতে হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট শান্তিপূর্ণ হবে কিনা। এদিনের ঘটনা সেই প্রশ্ন আরও উস্কে দিল। যদি বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত র্যাব সদস্যরাই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা কে দেবে?
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৪৩ জন র্যাব সদস্য দুটি মাইক্রোবাসে করে বিশেষ অভিযানে গিয়েছিলেন। মূলত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতেই এই অভিযান হচ্ছিল বলে দাবি, র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেনের। তিনি আরও বলেন, র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া-সহ র্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় পুলিশ কোনও রকমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আক্রান্ত ও আহত র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আহতদের চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযান হচ্ছিল তাঁদের কাছে আগেভাগেই খবর পৌঁছে গিয়েছিলো। তাই তাঁরা প্রস্তুত হয়েই বসেছিল। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, র্যাবের দুটি মাইক্রোবাস ওই এলাকায় পৌঁছতেই কয়েকশো মানুষ লাঠিসোঁটা, রড নিয়ে ধাওয়া করেন এবং অবাধে ভাঙচুর চালায়। ওই ফুটেজে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে ওই এলাকায় মাইকে ঘোষণা দেওয়ার শব্দ। কেউ একজন মাইকে ক্রমাগত র্যাবের মাইক্রোবাসে হামলা চালানোর নির্দেশিকা দিয়ে চলেছেন। এর থেকেই বোঝা যায় কতটা পরিকল্পিত এই হামলা। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় চার দশক ধরে চট্টগ্রামের পাহাড় কেটে জঙ্গল সলিমপুর অঞ্চলে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখন পাহাড় কেটে চলছে প্লট–বাণিজ্য। এখানকার ভূমিদস্যুদের দাপট এতটাই যে তাঁরা ওই এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে। বেআইনি অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়েছে। এমনকি ওই এলাকায় সবসময় সশস্ত্র পাহারায় থাকে এই সন্ত্রাসবাদীরা। পুলিশের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা গড়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, খুনাখুনির ঘটনা ঘটেই চলছে। কিন্তু এখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ওই সন্ত্রাসীদের দাপট এতটাই যে তাঁরা মাইকে ঘোষণা করে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, ভোটের আগে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই পরিকল্পিত হামলা। কারণ র্যাব বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত বাহিনী। পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় র্যাব। যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাধিকারীরাই থাকেন। এই বাহিনীতে মব সৃষ্টি করে হামলা, এবং একজন কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা আসলে বাংলাদেশ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া। সেটা হল, জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের মহাজঙ্গলরাজ চলছে বাংলাদেশে, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিপাত যাও। মুহাম্মদ ইউনূস আর কত লুকোবেন?












Discussion about this post