একটি দেশ ক’বার স্বাধীন হয়? সবাই জানি একবার। তবে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। দেশটি দুইবার স্বাধীনাত অর্জন করেছিল। প্রথম ১৯৭১ সালে। দ্বিতীয়বার ২০২৪-য়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। এই দ্বিতীয়বার স্বাধীন হওয়ার দাবি সবার নয়, এই দাবি জুলাই জঙ্গিদের। তাদের যুক্তি বাংলাদেশকে তারা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছে। বাকি কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা। পূর্বতন তদারকি সরকার অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে সেই কাজ পালন করেছে। বলা যেতে পারে, তদারকি সরকারের ওপর জুলাই যোদ্ধারা এই ব্যাপারে চাপ তৈরি করেছে। স্মৃতি বিজরিত ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বুলডোজার দিয়ে। ঘটনার দিন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। ভাষণ সম্প্রচারের কথা জানিয়ে দেয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগ। আর তা নিয়ে হাসিনা বিরোধীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। হাসিনার ভাষণ শুরুর আগেই তাদের সেই ক্ষোভের রোষ গিয়ে পড়ে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ির ওপর। হাসিনার বাসভবন ৫/এ – সুধা সদনেও আগুন লাগিয়ে দেয় জুলাই জঙ্গিরা। খুলনাতে শেখ হাসিনার কাকার বাড়ি ‘শেখ বাড়ি’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কুষ্টিয়াতে বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় প্রাক্তন সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও শেখ মুজিব এবং হাসিনার ম্যুরাল একদল পড়ুয়া ভেঙে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, বিশ্বের বড় বড় নেতারা এই বাড়িতে এসেছেন। আজ এই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কেন? বাড়িটির কী অপরাধ? এই বাড়িটিকে কেন এত ভয় পাচ্ছেন?” আওয়ামী লীগের নেত্রীর দাবি, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এর বিচার করবেন।
২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের অবিসংবাদি নেতা জাতির জনক ৫৬ হাজার বর্গমাইল ভূমি-কে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেদিন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। এই স্বাধীনতার পটভূমি হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা কোনও স্বপ্ন নয়। দীর্ঘ ২৪ বছরের বন্চনা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথপরিক্রমায় জাতিকে তৈরি করা হয় চুড়ান্ত লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য।পৃথিবির ইতিহাসে বাংলাদেশ সহ আর একটিমাত্র দেশ ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতা অর্জণ করে। ৩০ লক্ষ তাজা প্রাণ আর ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আজ ভুলন্ঠিত করার স্পর্ধা দেখায় ২৪শের তথাকথিত লাল বিপ্লবীরা। বাংলাদেশের সবচাইতে গৌরবময় অধ্যায় , ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। ২০২৪-শের কোটা আন্দোলনকে ব্যবহার করা হোচ্ছে ৭১কে মুছে ফেলার প্রয়াসে। বিগত বছরগুলোতে চলেছে স্বাধীনতার ঘোষণা দখল করার অপতৎপরতা।আর এখন যুক্ত হয়েছে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা! বর্তমান অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি অপশক্তি বাধা প্রধান করে প্রমান করছে তারা স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির দোষর! বিভিন্ন স্থানে জাতিয় স্বৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রতবন্ধকতা তৈরি করছে। কোথাও কোথাও তালা দিয়ে রেখেছে যেনো মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে না পারে।
কিন্তু এভাবে যে একটি দেশের ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না, সেটা এই জুলাই বিপ্লবীদের কে বোঝাবে? স্বাধীনতা মানে শুধু দাসত্ব বা শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়া নয়, স্বাধীনতা মানে মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে নিজের মতো করে বাঁচার সুযোগ। স্বাধীনতা মানে আনন্দকে জাগিয়ে রাখা আর পরাধীনতা হল বেদনার নাগপাশে বন্দী থাকা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘জুলাই যোদ্ধাদের এই ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও, ভেঙে দাও’ নীতি মাথা চাড়া দেওয়ার পিছনে আওয়ামী লীগ কোনওভাবেই তাদের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। তাদের উচিত ছিল মাঠে নেমে এই সব জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিহত করা। এটা ধরে নেওয়া যেতা পারে, মাঠে নামলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল। কিন্তু তাই বলে হাতগুটিয়ে বসে থাকাটা কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না।












Discussion about this post