প্রতিবেদন শুরু করা যাক বাংলাদেশের জাতীয় ত্রয়োদশ নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি নিয়ে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালবার্ট টি গম্বিসের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধদল। প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মোর্স এইচ. ট্যান, নর্থ আমেরিকার মুসলিম উম্মাহর সেক্রেটারি জেনারেল ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আরমান চৌধুরী এবং নিউ ইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা ফয়সাল আলম। সেই সাক্ষাৎকারে জামায়াতের তরফে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ড. জুবায়ের আহমদ, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানছুর, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম এবং ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম।
এটা শেষ নয়। ভোটের মুখে মুখে একটি অডিও ভাইরাল হয়। সেই অডিওতে একজন মার্কিন কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, জামায়াতে ইসলামি তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে সব থেকে ভালো ফল করতে পারে। সেই অডিও বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট একটি খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ’২৪-য়ের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিস্থিতিতে মার্কিন কুটনীতিকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা পুনরুত্থিত ইসলামপন্থী আন্দোলন বা নবোদ্যম ইসলামি দলগুলির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। গত ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মহিলা সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে ঢাকায় এক মার্কিন কুটনীতিক বলেন, দেশ ইসলামি ধারায় ফিরেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তার ইতিহাসে ভালো ফল করতে পারে।’
আর ভোটে দেখা গেল উল্টো ছবি। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীপদে আসীন হয়েছে। এখন জামায়াতের সঙ্গে আমেরিকার একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তার মূল কারণ, জামায়াত নিশ্চিত ছিল বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করতে তারা আমেরিকার সাহায্য পাবে। কিন্তু দেশটার নাম আমেরিকা। তারা অত্যন্ত হিসেবি। কোথায় বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা তারা অর্জন করতে সক্ষম হবে, সেটা আগে তারা হিসেব করে নেয়। জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে তাদের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হবে, সে ব্যাপারে ওয়াশিংটন নিশ্চিত হয়ে যায়। কারণ, জামায়াত মুখে যতই ভালো কথা বলুক না কেন, তারা যে তাদের মূল আদর্শ অর্থাৎ ইসলাম পন্থা থেকে সরে আসবে না, তার আর উল্লেখ করার দরকার পড়ে না। আমেরিকা বিশ্বাস করে গণতন্ত্রে, যে দেশ সব ধর্মের সমান অধিকার দিয়ে থাকে। কিন্তু জামায়াত এই তত্ত্বে বিশ্বাস রাখবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশর মতে, জামায়াত ভোটে ভাল করা এবং ক্ষমতায় আসীন হওয়ার জন্য ভালো ভালো কথা বলেছিল।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। শফিকূর রহমানের একটি বক্তব্য বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। তিনি বলেছেন, চিন কখনই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেনি। জামায়াতে আমিরের মুখে চিনের প্রশংসা শুনে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে জামায়াত এখন চিনের দিকে ঝুকতে শুরু করেছে। কারণ আমেরিকার প্রতি তাদের যে বিশ্বাস ছিল, ভোটের ফল তাদের সেই বিশ্বাসে ধাক্কা দিয়েছে। তাদের বিশ্বাসে আরও ধাক্কা দিয়েছে তারেকের ক্যাবিনেটে খলিলুর রহমানের প্রবেশ। এই খলিলুর পূর্বতন তদারকি সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তারকের মন্ত্রিসভাতেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। জামায়াত নিশ্চিত হয়ে যায়, খেলা কোন দিকে ঘুরতে শুরু করেছে। খলিলুর আমেরিকাপন্থী হিসেবে পরিচিত। তাঁকে মন্ত্রী করে তারেক রহমান আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাইছে। আর এতে সব থেকে প্যাঁচে পড়ে গিয়েছে জামায়াত। তারা কার্যত অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। নিজেদের অস্তিত্ব জিইয়ে রাখতে জামায়াত এখন চিনের দুয়ারে। তিস্তা প্রকল্পে তারা চিনের পূর্ণ সমর্থন চেয়েছে। জামায়াতের এই চিন প্রীতি তারেকের কাছে আতঙ্কসম। এই অবস্থায় পরিত্রাতা হয়ে উঠতে পারেন হাসিনা। আর সেটা সম্ভব হবে তিনি দেশে ফিরলে।












Discussion about this post