গণ আন্দোলনের জেরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর সেই দেশের ক্ষমতায় রয়েছেন ইউনূস ও তার উপদেষ্টা মন্ডলী। একটি দেশ চলে তার প্রশাসনিক স্বাধীন চিন্তা ভাবনার দাঁড়ায়। কিন্তু দেশ ও জাতির উন্নতির কথা না ভেবে রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়ে যায় তখন যা হওয়ার সেটাই ঘটেছে বাংলাদেশে।
বর্তমানে সে দেশে ১ কোটি ৬০ লক্ষ্য মানুষ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের ও চরম অপুষ্টির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। বুধবার এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে খাদ্য মন্ত্রকের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ বিভাগ এফপিএমইউ ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের তিনটি সংস্থা। এই রিপোর্টেই মাথায় হাত বাংলাদেশের আমজনতার, এবং জনগণের মধ্যে এক চরম উদ্বেগ জন্মাচ্ছে তা তাদের চোখে মুখে স্পষ্ট। রিপোর্টে বলা হয়েছে চরম অপুষ্টির সম্মুখীন হবে ১৬ লক্ষ শিশু সহ বাংলাদেশের প্রায় দু কোটির উপরে মানুষ। সেই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে বাংলাদেশের দুর্যোগপ্রবণ জেলার মানুষ এই সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে। রিপোর্টের স্পষ্টতই বলা হয়েছে রোহিঙ্গা শিবির সহ দেশের ৩৬ জেলার ৯ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি মানুষের উপরে বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে খাদ্য মন্ত্রক এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, শিশু তহবিল ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি যৌথভাবে ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ এ আইপিসি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।সেখানে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় বছরের শেষ আট মাসে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে গত বছরের তুলনায় এ বছর খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা অনেকাংশেই বেড়েছে। আর এই রিপোর্টে এখানেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর এক বছরের উপরে শাসন ক্ষমতায় ইউনূস সাহেব যে বাংলাদেশের প্রতি কোন উন্নতির দৃষ্টিভঙ্গি দেয়নি তা রিপোর্টেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তবে প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে তিনি কি শুধুমাত্র দেশটাকে লুটতে এসেছেন এমনই প্রশ্ন করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কারবারিরা। ইউনূসের মুখে সংস্কার সংস্কার তা কি হলো দেশের সংস্কার যেখানে শিশু থেকে শুরু করে বাংলাদেশের জনগণ আজ বিরাট খাদ্যের অনাহারে ভুগতে চলেছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে। গণতন্ত্রের মানুষের যে মৌলিক অধিকার তার মধ্যে খাদ্য অন্যতম। কিন্তু সেই খাদ্যের অনাহারেই যদি দেশবাসীকে দিনযাপন করতে হয় তাহলে সেই দেশের প্রধানের অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী যা বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা তা কি আদৌ থাকার যোগ্যতা থাকে বিশ্ব দরবারে এখন এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে। প্রসঙ্গত, খাদ্য মন্ত্রকের সচিব মো. মাসুদুল হাসান বলেন, ”আইপিসি প্রতিবেদনের সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি না, সমস্যা রয়েছে। আর এই কথা বলার মাধ্যম দিয়েই জানা যায় যে ইউনূস দেশ চালাতে ব্যর্থ তা তার সচিব ব্যর্থতার সার্টিফিকেট তবে কি ইউনূসের হাতে ধরিয়ে দিলেন?
বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা কমানো হচ্ছে। মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্লেষণ করা জেলার ১৭ শতাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশের এই পরিস্থিতির জন্য মূলত যে কারণগুলিকে দায়ী করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু বিপর্যয়, তহবিলের অভাব, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং খাদ্যবৈচিত্র্যের অভাব।”
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী খাদ্যঘাটতি, অপুষ্টি ও ঝুঁকিতে থাকা জনসাধারণকে মূল্যায়ন করা হয়েছে পাঁচটি ধাপে। ধাপ ১ : সর্বনিম্ন বা স্বাভাবিক, ধাপ ২ : চাপে থাকা, ধাপ ৩ : সঙ্কটে থাকা, ধাপ ৪ : জরুরি অবস্থা এবং ধাপ ৫ : দুর্ভিক্ষ। সেখানে বলা হচ্ছে দেশের ৩৬ জেলায় বসবাসকারি ৯ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কোনও জেলায় দুর্ভিক্ষ দেখা যায়নি, দেখা যাওয়ার আশঙ্কাও নেই। ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গা মানুষের খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় জরুরি অবস্থা দেখা দিতে পারে। এই সংখ্যা ৩ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনে এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এবং মে থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে ৩৬টি জেলার মধ্যে ১৬টি জেলার ১ কোটি ৫৫ লক্ষ মানুষ খাদ্যসংকটে ছিল। আর মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১৩টি জেলার ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ খাদ্যসংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। জেলাগুলো হচ্ছে বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বান্দরবান, রাঙামাটি, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজার।
সবচেয়ে বেশি খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছে কক্সবাজারের মানুষ, বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের জনসাধারণ। এই জেলার ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটের সম্মুখীন। কক্সবাজার ও ভাসানচর মিলিয়ে ৪০ শতাংশ ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্যসংকট ও জরুরি অবস্থায় পড়তে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশের এই ভয়ানক রিপোর্টের মুখে দাঁড়িয়ে সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস আদৌ কি কোন পদক্ষেপ নেবেন যাতে করে সে দেশের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে শিশুরা খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে বাঁচতে পারে এবং বাংলাদেশ তার গরিমা ফিরে পায়।
তা সম্পূর্ণটাই নির্ভর করছে মোহাম্মদ ইউনূসের উপর।












Discussion about this post