আরও একবার আলোচনায় বাংলাদেশের ১৫ জন সেনাকর্মকর্তা। আমরা সকলেই জানি আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-খুন সহ মানবতাবিরোধী অপরাধে তিন মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল (আইসিটি) । এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা বাংলাদেশ। এই ১৫জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। বলা হচ্ছে এই সব কিছুই হয়েছে ইউনূসের নির্দেশে। তার জন্য ইউনূস সরকার বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। ১৫ সেনাকর্মকর্তার দাবি ছিল, তারা যদি মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থেকে থাকেন, তাহলে তাদের বিচার করতে হবে সেনা আইনে। কোনও সাধারণ আদালতে নয়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই চক্রান্তে একা ইউনূস নন, চক্রান্তে তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন তাঁর এক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ইউনূসের ইচ্ছাতেই রাতারাতি বদলে যায় চার্জশিট। এই সেনাকর্মকর্তাদের আইনজীবীরা যাতে আদালতে সওয়াল করতে না পারেন, তারও ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন ইউনূস সরকার। ইতিমধ্যে এই আইসিটির বিরুদ্ধে তারেক সরকারের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর আইসিটিতে বড় ধরনের রদবদল ঘটায় বিএনপি সরকার। আইসিটির চিফ প্রসিকিউটার তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই রদবদলের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাজুলের জায়গায় চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ করা হয়েছে আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে।
র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল ও ডিজিএফআই-এর জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) কর্তৃক গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামি করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি সব ধরনের গুম-খুনের নির্দেশদাতা। দুই মামলার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনকে আসামি করা হয়। দুই মামলায় কমন আসামি শেখ হাসিনা ও তার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। ২৮ আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার নিয়োগ পাওয়া গুম-খুনে জড়িত নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর ৫ জন সাবেক মহাপরিচালকসহ ২৩ জন সেনা কর্মকর্তা এবং ৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে কর্মরত উচ্চপর্যায়ের ৪ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন দপ্তরে এখনো বহাল আছেন। পুলিশের ৩ জনের মধ্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক খুরশিদ হোসেন ও ব্যারিস্টার হারুন-অর রশিদ। তারা পলাতক।
মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগে এই সেনাকর্মকর্তাদের সাবজেলে রাখার বিষয়টি পছন্দ করেনি পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান। এই প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম কি বলেছিলেন একবার দেখে নেওয়া যাক। তিনি বলেছিলেন, সেনাবাহিনীর গ্রেফতারের ক্ষমতা নেই। পরোয়ানা তামিল করবে পুলিশ। তাজুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেনাবাহিনী তাদের ১৫ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে পারে কি না, এই প্রশ্ন করা হলে, তিনি না বলেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনও বিভ্রান্তির কোনও সুযোগ নেই। এই বিষয়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসারদের অবহিত করা হয়েছে। তারা গ্রেফতার করবে না। ’ এই নিয়ে বাহিনার সঙ্গে ইউনূস এবং তাঁর সরকারের রীতিমতো ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয়। এই অভিযুক্ত সেনাকর্মকর্তাদের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার আগে তারা সেনাবাহিনীর শীর্ষমহলে একটি আইনি নোটিশও পাঠায়। তাদের প্রধানযুক্তিগুলি ছিল, ১৯৫২ সালের সেনা আইন অনুসারে তাদের বিচার করতে হবে। সেখানে আরও সেনা আইনের ৫৯ নম্বর ধারার উল্লেখ করে বলা হয়, হত্য, নরহত্যা ও ধর্ষণ ছাড়া অন্য কোনও সিভিল অফেন্সের ক্ষেত্রে সেনা আইনেই করতে হবে।
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত বুধবার (৮ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল এই নির্দেশ দেন। আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করে ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।












Discussion about this post