যে দলের কাঁধে ভর করে, যে দলের নেতাদের কাঁধে ভর কর ইউনূস ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন, সেই জামায়াত এখন ইউনূসের কাছে আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে যে সাউন্ড সিস্টেম বা হেডফোন ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে বড়ো ধরনের দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলের প্রবীণ নেতা শাহজান চৌধুরী। তবে তিনি একা নয়, দলের আরও এক নেতা এই সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় জাতীয় সংসদের অধিবেশন। বিরতির পর নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভা শুরু হলে সাউন্ড সিস্টেমে গোলোযোগ দেখা দেয়। স্পিকারকে দেখা গেল তিনি হাতে মাইক নিয়ে সভা পরিচালনা করছেন। যান্ত্রিক বিভ্রান্তি এতটাই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে সভা ২০ মিনিটের জন্য স্থগিত রাখেন। বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে দেখা যায় সেই যান্ত্রিক বিভ্রাট। একাধিক সাংসদ বিষয়টি নিয়ে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ঘটনার দিন জামায়াত সাংসদ ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম হেডফোনের বিষয়ে অভিযোগ করেন। তিনি তার ফেসবুক পেজে লেখেন, “ এই হেডফোনের মান এতটাই ভয়াবহ যে ব্যবহার করতে গিয়ে কান মাথা পর্যন্ত ব্যথা করছে। সাউন্ড কোয়ালিটি এমন নিম্নমানের- সংসদে পুরনো ডিভাইস এর চেয়ে পরিষ্কার অডিও দিত নিশ্চই। সম্পূর্ণভাবে হতাশ। ”
তবে বোমা ফাটিয়েছেন দলের আরও এক প্রবীণ নেতা শাহজান চৌধুরী। স্পিকারকে হেডফোন দেখিয়ে তিনি বলেন, “এখন এতবড় বোঝা মনে হয়।” চাচাছোলা ভাষায় তিনি নিশানা করেন আগের সরকার এবং সেই সরকারের প্রধানকে। সাংসদ শাহজাহান বলেন, “একটা বাজেট করেছিল। আর ওখান থেকে লুটপাট বাহিনীর একটি বিল করে খাওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা করেন। ” স্পিকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ আমাদের হাউসে সাউন্ড সিস্টেটা, আমরাতো আরও দুইবার সংসদে এসেছি, আপনিও এসেছেন। কিন্তু এত বড়ো একটা (হেডফোন দেখিয়ে) বোঝা মাথার ওপর দিয়ে এক-দুই ঘণ্টা বসা সবার জন্য কষ্টকর হচ্ছে। এটা ছাড়া যাতে করে একটা সাউন্ড সিস্টেম হয়। ” এই প্রসঙ্গে তিনি স্মৃতিচারণ করেন। সাংসদ শাহজাহান বলেন, “১৯৯১ সালের সংসদে এটা ছাডা়ই সংসদ চালিয়েছি। ২০০১ সালেও চার দলীয় সরকারের সময়েও হয়েছে।” এখানেই শেষ নয়। স্পিকার ও নতুন সরকারের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “এ জন্য সাউন্ড সিস্টেমটা সুন্দর করার জন্য একটি সাধারণ হেডফোন দিলে আমরা শুনতে পাই। কিন্তু এতবড়ো বোঝার দরকার নেই। হেডফোন ছাড়াও সংসদের সাউন্ড সিস্টেমটা আধুনিকায়ন করলে খুশি হবো। ”
প্রশ্ন হল সংসদে কত হেডফোন দেওয়া হয়েছে। একটা আন্দাজ করা যেতে পারে, কম করেও চারশো হেডফোন দেওয়া হয়েছে। এই হেডফোনে একটি কোম্পানির লোগো এবং নাম রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হেডফোন নিয়ে নানা পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, বিশেষ একটি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে তদারকি সরকার এই কীর্তি করেছেন। সেটা জামায়াত নেতার মন্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে। অভিযোগ এই হেডফোন দিয়েছে জিঞ্জিরার একটি সংস্থা। অথচ বাংলাদেশের বাজারে বহু ভালো কোম্পানি রয়েছে, যাদের হেডফোন নিয়ে কোনও অভিযোগ শোনা যায় না। আর যে হেডফোন সংসদে দেওয়া হয়েছে, সেই হেডফোন দামি বলে দাবি করা হয়েছে। পূর্বতন তদারকি সরকার যে নানা ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগ করা থেকে শুরু করে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে মুখে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি। বলা হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সরকারের সময়েও দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু ১৮ মাসের সরকার যে পরিমাণ দুর্নীতি করেছেন, সেটা গিনেস বুকে নাম তোলার পক্ষে যথেষ্ঠ।মূল প্রশ্ন এখন তারেক রহমান সরকার কি সংসদের এই জঘন্য হেডফোন সরিয়ে উন্নতগুণমানের হেডফোনের ব্যবস্থা করবেন?












Discussion about this post