প্রতিবেদনের সূত্রে রবীন্দ্রনাথের অমোঘ সেই উক্তির কথা স্মরণ করতে হয়ে – “ যারে তুমি নীচে ফেল, সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে, পশ্চাতে রেখেছ যারে, সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।” এই অমোঘ উক্তির উল্লেখের কারণ, সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মুক্তি। তাঁকে জেলে পাঠিয়েছিল তদারকি সরকার। কারাগারে পাঠাবার কারণ তিনি পূর্বতন তদারকি সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে বলেছিলেন, “আজকে আপনি যাদের ঘর ভাঙছেন, কালকে ওরা আপনার ঘর ভাঙলে কী হবে।” বরেণ্য সাংবাদিকের এই মন্তব্য সহ্য করতে পারেননি তদারকি সরকার প্রধান। তাই রাগের বশে তিনি এই বরেণ্য সাংবাদিককে জেলে পাঠিয়েছিলেন।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর একটি ধানমন্ডীর একটি ব্যায়ামগার থেকে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেফতার করে। পরের দিন তাঁর বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে পাঁচদিনের রিম্যান্ডে নেওয়া হয়। রিম্যান্ড শেষে তাকে গাজিপুরের কাশীমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। শনিবার ১৪ মার্চ কাশীমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২ থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান। বরেণ্য এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। মামলায় আনীস আলমগীরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হয়। ২৫ জানুয়ারি তাঁকে এই মামলায় গ্রেফতারের আবেদন করে দুদক। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে। বরেণ্য এই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে সরব হয় বাংলাদেশের সুশীল সমাজ। মুক্তির দাবি তোলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। যদিও কোনও দাবিকে আমল দিতে চায়নি তদারকি সরকার।
গত ১৮ মাসে তদারকি সরকার যে কত দুর্নীতি করেছে, তার তালিকা তৈরি করা মুশকিল। পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি বললে কিছুই বলা হবে না। দুর্নীতির হিমশৈল। তবে যেটা সব থেকে বেশি হাস্যকর এবং লজ্জাজনক তা হল পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান নিজেই নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজে নিজেকে ভিআইপি ঘোষণা কারণ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা। তদারকি সরকার প্রধান যে মবের রাজত্ব তৈরি করেছেন, সেই মব যদি তাঁর ওপর হামলা চালায় সেই আতঙ্কে তিনি নিজেকে ভিআইপি ঘোষণা করেছেন। নিজের নিরপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি এক বছরের জন্য স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফের বিশেষ নিরাপত্তা পাবেন। অনেকে বলছেন, ইউনূস হয়তো এক বছরের জন্য বাংলাদেশে থাকবেন।
এই অবস্থায় জেল থেকে মুক্তি পেলেন বাংলাদেশের বরেণ্য সাংবাদিক আনীস আলমগীর বলেছেন, “ শুধু অন্যায় নয়, আমার সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে। আপনি আপনাকে বলতেছেন যে আমার সমালোচনা করেন। তারপর সমালোচনা করার ফলে আমাকে জেলে দিয়ে দিলেন। এটা তো বাটপারি। এর চেয়ে বড়ো বাটপারি গত এক হাজার বছরে কেই কোথায় দেখেনি।” একটা সরকারকে একজন বাটপার বলে মন্তব্য করেছেন। বরেণ্য এই সাংবাদিকের সঙ্গে পূর্বতন সরকার একপ্রকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কারণ, সরকার একদিকে বলছে, সমালোচনাকে স্বাগত। আবার সেই সরকারের কেউ সমালোচনা করলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দায়ের করা হচ্ছে একের পর এক মামলা। শুধুমাত্র একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যে সরকারে ক্ষোভ আছে এমনটা নয়, সরকার বিরোধী যারাই সেই সময় বাংলাদেশে ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, পূর্বতন সরকার তো একটা অবৈধ সরকার ছিল। সুতরাং, সেই সরকারের কোনও কার্যক্রম বৈধ হবে না তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না।












Discussion about this post